Dhaka শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কৃষকের স্বপ্ন বন্যার পানিতে ভেসে গেছে

হাওরের কান্না: বন্যা, ফসল ও ভবিষ্যৎ (পর্ব–১)

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৭:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / ১৫৪ বার দেখা হয়েছে

কেউ আধাপাকা ধান হারিয়েছেন, কেউ কাটা ধান ঘরে তোলার আগেই দেখেছেন বন্যার পানি। অনেক কৃষক ঋণ করে বোরো চাষ করেছিলেন। সেই ফসলই ছিল পরিবারের পুরো বছরের প্রধান ভরসা। কিন্তু আকস্মিক বন্যা আবারও তাদের সামনে অনিশ্চয়তার এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

হাওরের মানুষ জানেন—একটি বন্যা মানে শুধু জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়া নয়। এর অর্থ আরও গভীর, আরও নির্মম।

একটি বন্যা মানে—

  • ঋণের বোঝা
  • সংসারের সংকট
  • সন্তানের পড়াশোনায় অনিশ্চয়তা
  • নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই

প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতি কয়েক বছর পরপর কেন এমন আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে?
এটা কি শুধুই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি আমাদের পরিকল্পনা ও নদী ব্যবস্থাপনারও ত্রুটি আছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—

✅ উজানের পাহাড়ি ঢল
✅ নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়া
✅ অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ
✅ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল দ্রুত নেমে আসে। এতে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, অনেক নদী, খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। কোথাও কোথাও নদীর সঙ্গে হাওরের প্রাকৃতিক সংযোগও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। আগে যে বৃষ্টিপাত দীর্ঘ সময়ে হতো, এখন তা স্বল্প সময়ে অত্যধিক মাত্রায় হচ্ছে। ফলে নদীগুলো দ্রুত বিপৎসীমা অতিক্রম করছে এবং হাওর আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রতি কয়েক বছর পরপর হাওরের মানুষ একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।
এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কি এখনো কেবল বন্যা হলে ত্রাণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবো, নাকি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগোবো?

👉 পরের পর্বে থাকছে:
হাওরের কান্না: বন্যা, ফসল ও ভবিষ্যৎ (পর্ব–২)

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

কৃষকের স্বপ্ন বন্যার পানিতে ভেসে গেছে

হাওরের কান্না: বন্যা, ফসল ও ভবিষ্যৎ (পর্ব–১)

প্রকাশের সময় ০৭:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

কেউ আধাপাকা ধান হারিয়েছেন, কেউ কাটা ধান ঘরে তোলার আগেই দেখেছেন বন্যার পানি। অনেক কৃষক ঋণ করে বোরো চাষ করেছিলেন। সেই ফসলই ছিল পরিবারের পুরো বছরের প্রধান ভরসা। কিন্তু আকস্মিক বন্যা আবারও তাদের সামনে অনিশ্চয়তার এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

হাওরের মানুষ জানেন—একটি বন্যা মানে শুধু জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়া নয়। এর অর্থ আরও গভীর, আরও নির্মম।

একটি বন্যা মানে—

  • ঋণের বোঝা
  • সংসারের সংকট
  • সন্তানের পড়াশোনায় অনিশ্চয়তা
  • নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই

প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতি কয়েক বছর পরপর কেন এমন আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে?
এটা কি শুধুই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি আমাদের পরিকল্পনা ও নদী ব্যবস্থাপনারও ত্রুটি আছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—

✅ উজানের পাহাড়ি ঢল
✅ নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়া
✅ অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ
✅ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল দ্রুত নেমে আসে। এতে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, অনেক নদী, খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। কোথাও কোথাও নদীর সঙ্গে হাওরের প্রাকৃতিক সংযোগও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। আগে যে বৃষ্টিপাত দীর্ঘ সময়ে হতো, এখন তা স্বল্প সময়ে অত্যধিক মাত্রায় হচ্ছে। ফলে নদীগুলো দ্রুত বিপৎসীমা অতিক্রম করছে এবং হাওর আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রতি কয়েক বছর পরপর হাওরের মানুষ একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।
এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কি এখনো কেবল বন্যা হলে ত্রাণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবো, নাকি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগোবো?

👉 পরের পর্বে থাকছে:
হাওরের কান্না: বন্যা, ফসল ও ভবিষ্যৎ (পর্ব–২)