মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, এখন প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ
- প্রকাশের সময় ০৮:০১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / ১৩৪ বার দেখা হয়েছে
সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদক ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ, উদ্ধার করা মাদক ধ্বংসের মাধ্যমে যেমন আইনি প্রক্রিয়ার একটি ধাপ সম্পন্ন হয়, তেমনি মাদকবিরোধী অভিযানের দৃশ্যমান প্রতিফলনও সামনে আসে।
তবে এই ঘটনাটি একই সঙ্গে আরেকটি উদ্বেগজনক বাস্তবতাও তুলে ধরে। এত বিপুল পরিমাণ মাদক সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছে—এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নয়, গোটা সমাজের জন্যই সতর্কবার্তা। সীমান্তে যত অভিযানই পরিচালিত হোক না কেন, মাদকের চাহিদা ও চোরাচালান চক্রের নেটওয়ার্ক অটুট থাকলে এই সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন হবে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), এলএসডি এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ। এসব মাদকের বিস্তার সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মাদকের ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে, যা শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, পরিবার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু কেবল অভিযান ও জব্দের পরিসংখ্যান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, পাচারপথ, অর্থায়ন এবং এর সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে আইনের আওতায় এনে কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই মূলত একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম—সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও বাড়াতে হবে, যাতে তারা মাদকের প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে পারে।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বাস্তবে রূপ দিতে হলে সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সমাজের ভেতরেও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জব্দ করা মাদক ধ্বংস একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ; তবে প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন মাদক দেশের সীমান্ত পেরিয়ে সমাজে প্রবেশের সুযোগই পাবে না।


















