অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস
- প্রকাশের সময় ০৬:৪২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪০ বার দেখা হয়েছে
হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং আর তানজিদ হাসান তামিমের অসাধারণ সেঞ্চুরিই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিল। পরে ব্যাট-বল হাতে দাপুটে পারফরম্যান্সে সেই সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ পর্যন্ত তার নৈপুণ্যে সাড়ে তিন দিনেই ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে রবিবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্ট জিততে বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৫৭ রান। যা ১ উইকেট হারিয়ে চা বিরতির আগেই তুলে দেন সাদমান ইসলাম (২৫*) আর মুমিনুল হক (৩০*)। এ জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।
৫৭ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে রবিবার শুরুটা ভাল হয়নি বাংলাদেশের। ৪ রানেই প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমকে হারায় টাইগাররা। জশ হ্যাজলউডের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন তিনি। এরপর অবশ্য আর কোন সমস্যায় পড়েনি টিম বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ইসলাম আর মুমিনুল হক অনেকটা সাবলীলভাবে ব্যাট করে অজি বোলারদের হতাশ করে সহজেই জয় নিশ্চিত করেন।
এরআগে রবিবার লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ২২৮ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে লক্ষ্য দিতে পারে মাত্র ৫৭ রানের। যা ১ উইকে হারিয়ে টাইগাররা পেরিয়ে যায় সহজেই।
রবিবার ৪ উইকেট নিয়ে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম সেশনে ৮২ রান করলেও ৩ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকেরা। তাতে তাদের লেজ বের হয়ে আসে। একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে টিকে ছিলেন কেবল গ্রিন। সেঞ্চুরির পর তিনি হাসানের বলে আউট হলে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়ার আশা শেষ হয় যায় অস্ট্রেলিয়ার।
চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই দারুণ বোলিং করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুতে প্রথম উইকেট পান তিনি। ৫৯ দশমিক ৩ ওভারে তার একটি বল বড় বাঁক নিয়ে ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটের কানায় লাগে। বল গিয়ে জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। ৭২ বলে ৩০ রান করে ফেরেন ক্যারি। এতে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙে। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন বো ওয়েবস্টার।
কিছুক্ষণ পর ফিফটি তুলে নেন গ্রিন। ৬১তম ওভারের শেষ বলে তিন রান নিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি এটি। গত ১৩ ইনিংসে এই প্রথম পঞ্চাশ ছুঁলেন গ্রিন।
এরপর আবার আঘাত হানেন মিরাজ। দারুণভাবে সেট আপ করার ফল পান তিনি। আগের সবকটা বল বাঁক নিয়ে ভেতরে ঢুকেছে, তবে শেষ বলটা আর সে বাঁক নেয়নি, অথচ তা নেবে ভেবেই ব্যাট চালান ওয়েবস্টার। কিন্তু বল সোজা গিয়ে ভেঙে দেয় স্টাম্প। মাত্র ৫ রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ক্রিজে আসেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
তবে বেশিক্ষণ টেকেননি কামিন্সও। মিরাজের একটি বল অফ স্টাম্পের বাইরে কিছুটা চওড়া জায়গায় পড়ে। কামিন্স বল ঠেকাতে ব্যাট এগিয়ে দেন। কিন্তু বল ব্যাটে লেগে মোড় নেয়। শর্ট লেগে দাঁড়ানো সাদমান ইসলাম দুর্দান্ত ক্যাচ নেন। ৩২ বলে ৮ রান করে ফেরেন কামিন্স। অস্ট্রেলিয়া তখনও ইনিংস হার এড়ানো থেকে দাঁড়িয়ে ২১ রানের দূরত্বে।
এদিকে লাঞ্চ থেকে ফিরে তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেটের পতন ঘটায়। ৮৭তম ওভারের পঞ্চম বলে মিচেল স্টার্ককে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ।
৩৪ বলে দুই চারে ১৮ রান করেন স্টার্ক। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৪৩ রানের। ২৫০ রানে ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ৯৫ রানে জীবন দেন গ্রিনকে। অজি ব্যাটার সুযোগের সদ্ব্যবহার করে শতক হাঁকান। কিন্তু দলের কঠিন পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি করলেও আরও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি তিনি। চতুর্থ দিন প্রথমবার বল হাতে নিয়েই তাকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। এরপর অজিদের শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন মিরাজ। লায়নকে এলবিডব্লিয়ের ফাঁদে ফেলেন এ স্পিনার। সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় টিম টাইগার্স। শেষ পর্যন্ত জবাব দিতে নেমে মুমিনুল ও সাদমানের ব্যাট ভর করে সহজেই অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথবার হারিয়ে ইতিহাস গড়ে আনন্দে মাতে টিম টাইগার্স।
ডারউইন টেস্টের আগে আলোচনা ছিল বাংলাদেশ এই টেস্ট তৃতীয় দিনে নিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে! টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান এক নম্বরে, আর বাংলাদেশ নয়ে। এমন আলোচনা–সমীকরণের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪ (গ্র্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪, লাবুশেন ৩১, ক্যারি ৩০, স্টার্ক ১৮, লায়ন ১৫; মিরাজ ৫/৬৬, হাসান ৩/৫৬, তাসকিন ১/৬৬, তাইজুল ১/৫১, ইবাদত ০/৩৮)
বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ১/৫৭ (মুমিনুল ৩০, সাদমান ২৫, তানজিদ ০; হ্যাজলউড ১/৫, স্টার্ক ০/১৫, লায়ন ০/২৩)।
ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: হাসান মাহমুদ




























