প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়।
নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো বিভিন্ন স্তরে ভর্তি করানোর ফলে অল্প বয়সেই তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনা ও বইয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রেখে অননুমোদিত কোর্সগুলো বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরে লিখিত, মৌখিক ও স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়েও নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, অল্প বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা শিশুদের মধ্যে ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিটিবির নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, ওয়ার্কবুক ও সহায়ক বই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার যোগসাজশে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বই ও পাঠ্যসূচির বোঝা চাপানো হচ্ছে। এর ফলে শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ ও সৃজনশীল বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, শিশুদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে মুক্তচিন্তা, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। এ ধরনের অতিরিক্ত চাপ সংবিধানের ১৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত বিভিন্ন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন আইনজীবী।
নোটিশে তিনটি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এগুলো হলো—অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স বন্ধ, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা নিষিদ্ধ এবং নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
পাশাপাশি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি 









































