রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা উদ্বেগজনক মাত্রা অর্জন করেছে। একসময় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন ইয়াবা, আইস, হেরোইন কিংবা অন্যান্য মাদকের বাজার বিস্তৃত হয়েছে সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই বিস্তারের ফলে তরুণ সমাজের একটি অংশ ধ্বংসের মুখে পড়ছে, পরিবারগুলোতে বাড়ছে অস্থিরতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ক্রমেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে যে চিত্র সামনে এসেছে, তা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আইন প্রয়োগ ও অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম যখন মাদক কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় উঠে আসে, তখন তা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না; বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং অবৈধ পার্টির আয়োজনের তথ্য প্রমাণ করে যে অপরাধী চক্রগুলো এখন আরও সংগঠিত ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। একইভাবে কথিত বিভিন্ন ক্লাব, বিনোদনকেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত আয়োজনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক ও মদের বাণিজ্য চলার খবর উদ্বেগজনক। এসব কর্মকাণ্ড বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত হওয়ার অর্থ হলো, কোথাও না কোথাও নজরদারির ঘাটতি ছিল অথবা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অপকর্ম টিকে থাকার সুযোগ পেয়েছে। যখন কোনো অপরাধ বারবার সংঘটিত হয় এবং তা প্রকাশ্যে আসার আগ পর্যন্ত বাধাহীনভাবে চলতে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই খুচরা বিক্রেতা বা নিম্নস্তরের কারবারিরা ধরা পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অবৈধ বাণিজ্যের পেছনে থাকে অর্থ, প্রভাব ও সংগঠিত নেটওয়ার্ক। কেবল মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন এর অর্থদাতা, পৃষ্ঠপোষক, সরবরাহকারী এবং প্রভাবশালী আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। অন্যথায় সময়ের ব্যবধানে নতুন মুখ নিয়ে একই চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে।
Reporter Name 












































