বাংলাদেশ 11:56 pm, Friday, 30 October 2026

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আরো কঠোর হতে হবে

  • Reporter Name
  • প্রকাশ 10:12:27 pm, Friday, 30 October 2026
  • 104 Time View

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনমন ঘটে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রত্যাশিত মাত্রায় এ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেনি। দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও জানমালের নিরাপত্তার উদ্বেগ কাটেনি, বরং নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা বাড়ছে। প্রায়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খুনখারাবির খবর আসছে। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য বলছে, সারা দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ১৩৮টি গুলির ঘটনায় ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ ২১ জেলায় গুলিতে প্রাণ গেছে ৬৭ জনের। আহত অন্তত ১৪৫ জন। এর মধ্যে খুলনায় ১৫ জন নিহত ও ২০ জন আহত, চট্টগ্রামে নিহত ১৩। ডিএমপি সূত্র বলছে, গত ৯ মাসে রাজধানীতে ১৭টি গুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। একই সময় সর্বাধিক ৩৯টি ঘটনা ঘটে খুলনায়। সর্বশেষ গত রবিবার খুলনায় দুটি গুলির ঘটনার কয়েক দিন আগে আরো দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্বৃত্তদের হাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মজুদ বাড়তে থাকে। এ সময় থানা ও ফাঁড়ি থেকে পুলিশের লুট হওয়া পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের বেশির ভাগ সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যায়। এর মধ্যে ১৩ শতাধিক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এর বাইরে সীমান্তের চোরাই পথে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ঢোকে দেশে। এসব অস্ত্রে এখন খুনাখুনি বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সব অর্জন বৃথা যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বরাবর দাবি করা হচ্ছে যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কিন্তু এ কথার দৃশ্যমান ফলাফল সেভাবে লক্ষণীয় নয়, বরং এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও নিম্নমুখী পারফরম্যান্স বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। সুতরাং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে যেন অস্ত্র না ঢুকতে পারে তার জন্য কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আরো কঠোর হতে হবে

প্রকাশ 10:12:27 pm, Friday, 30 October 2026

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনমন ঘটে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রত্যাশিত মাত্রায় এ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেনি। দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও জানমালের নিরাপত্তার উদ্বেগ কাটেনি, বরং নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা বাড়ছে। প্রায়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খুনখারাবির খবর আসছে। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য বলছে, সারা দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ১৩৮টি গুলির ঘটনায় ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ ২১ জেলায় গুলিতে প্রাণ গেছে ৬৭ জনের। আহত অন্তত ১৪৫ জন। এর মধ্যে খুলনায় ১৫ জন নিহত ও ২০ জন আহত, চট্টগ্রামে নিহত ১৩। ডিএমপি সূত্র বলছে, গত ৯ মাসে রাজধানীতে ১৭টি গুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। একই সময় সর্বাধিক ৩৯টি ঘটনা ঘটে খুলনায়। সর্বশেষ গত রবিবার খুলনায় দুটি গুলির ঘটনার কয়েক দিন আগে আরো দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্বৃত্তদের হাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মজুদ বাড়তে থাকে। এ সময় থানা ও ফাঁড়ি থেকে পুলিশের লুট হওয়া পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের বেশির ভাগ সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যায়। এর মধ্যে ১৩ শতাধিক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এর বাইরে সীমান্তের চোরাই পথে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ঢোকে দেশে। এসব অস্ত্রে এখন খুনাখুনি বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সব অর্জন বৃথা যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বরাবর দাবি করা হচ্ছে যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কিন্তু এ কথার দৃশ্যমান ফলাফল সেভাবে লক্ষণীয় নয়, বরং এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও নিম্নমুখী পারফরম্যান্স বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। সুতরাং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে যেন অস্ত্র না ঢুকতে পারে তার জন্য কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হবে।