বাংলাদেশ 6:47 am, Friday, 6 November 2026

আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনিকে ঘিরে উত্তেজনা, সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থী আহত

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকজন সাংবাদিক ও এক বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং আরেক সাংবাদিকের হাতে খামচি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে পরীমনির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। এর আগের দিন বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। ৫০০ টাকা মুচলেকায় তিনি জামিন পান। বিষয়টি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) নিশ্চিত করেছে। আদালতে পরীমনির উপস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর তিনি গাড়িতেই অবস্থান করেন। পরে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এজলাসে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে রাখেন। এ সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। বাংলা ট্রিবিউন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিফটে ওঠার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমনি। পরে ওই সাংবাদিক ফোনটি ফিরিয়ে নেন। আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও তাঁর সঙ্গে ওই সাংবাদিকের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিকে পরীমনি অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের মধ্য থেকে একজন তাঁর শরীরে হাত দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁকে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তবে শরীরে হাত লাগার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত, নাকি ভিড়ের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কায় আহত সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থী

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার আহত হন। আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে। পরে তাঁদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই ঘটনায় আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্র মনি দাসের মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে তাঁর ভাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কায় তিনি আহত হন। ঘটনার পর তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এ ছাড়া আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন অভিযোগ করেছেন, পরীমনি তাঁর হাতে খামচি দিয়েছেন। অন্যদিকে সমকালের সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। ভিড়ের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারও শরীরে হাত লাগলে তা নিয়ে অভিযোগ বা প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায়। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের আহত হওয়া এবং একজন বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে আদালত প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

সূত্র: বাসস, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলা ট্রিবিউন, জাগো নিউজ ও দৈনিক ইনকিলাব।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদের গভীরে কী লুকিয়ে আছে?

আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনিকে ঘিরে উত্তেজনা, সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থী আহত

প্রকাশ 03:31:40 pm, Thursday, 5 November 2026

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকজন সাংবাদিক ও এক বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং আরেক সাংবাদিকের হাতে খামচি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে পরীমনির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। এর আগের দিন বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। ৫০০ টাকা মুচলেকায় তিনি জামিন পান। বিষয়টি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) নিশ্চিত করেছে। আদালতে পরীমনির উপস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর তিনি গাড়িতেই অবস্থান করেন। পরে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এজলাসে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে রাখেন। এ সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। বাংলা ট্রিবিউন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিফটে ওঠার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমনি। পরে ওই সাংবাদিক ফোনটি ফিরিয়ে নেন। আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও তাঁর সঙ্গে ওই সাংবাদিকের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিকে পরীমনি অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের মধ্য থেকে একজন তাঁর শরীরে হাত দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁকে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তবে শরীরে হাত লাগার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত, নাকি ভিড়ের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কায় আহত সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থী

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার আহত হন। আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে। পরে তাঁদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই ঘটনায় আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্র মনি দাসের মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে তাঁর ভাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কায় তিনি আহত হন। ঘটনার পর তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এ ছাড়া আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন অভিযোগ করেছেন, পরীমনি তাঁর হাতে খামচি দিয়েছেন। অন্যদিকে সমকালের সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। ভিড়ের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারও শরীরে হাত লাগলে তা নিয়ে অভিযোগ বা প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায়। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের আহত হওয়া এবং একজন বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে আদালত প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

সূত্র: বাসস, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলা ট্রিবিউন, জাগো নিউজ ও দৈনিক ইনকিলাব।