বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
- প্রকাশের সময় ১০:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৯ বার দেখা হয়েছে
দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, টিকার ঘাটতি এবং মৃত্যুর হার বাড়ায় এ মূল্যায়ন করা হয়েছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই দেশে হামের সংক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৭৩ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ১২ হাজার ৩১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকি বেশি। পাশাপাশি রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও সংক্রমণ বাড়ছে।
আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এদের বড় একটি অংশ কখনো টিকা পায়নি বা আংশিক টিকা নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার কভারেজ কমে যাওয়া এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অপুষ্টি ও ভিটামিন ‘এ’–এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতের কারণে সংক্রমণ পার্শ্ববর্তী দেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় ঝুঁকি বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টিকাদানের হার অন্তত ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা, সীমান্ত নজরদারি জোরদার, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ভিটামিন ‘এ’ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করাই এই সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।






















