Dhaka সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়াদ শেষেও চলছে বালু উত্তোলন, বাড়ছে ভাঙনের শঙ্কা

Abdur Rahman
  • প্রকাশের সময় ১০:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৫ বার দেখা হয়েছে

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার হিজলিয়া মৌজার বালুমহালের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৩ এপ্রিল (৩১ চৈত্র)। নতুন করে ইজারা কার্যকর হওয়ার আগেই আগের ইজারাদারদের প্রভাবে এখনো অব্যাহত রয়েছে বালু উত্তোলন। এতে খোলপেটুয়া নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের শঙ্কা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য নতুন ইজারার আবেদন জমা পড়েছে একাধিক। তবে তার আগেই আগের বছরের ইজারাগ্রহীতারা বিভিন্ন কৌশলে বালু তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে মঙ্গলবার খোলপেটুয়া নদীর ঘোলা এলাকায় দেখা যায়, তিনটি কার্গো দিয়ে খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে। এসব বালু পাশের একটি আড়তে নামিয়ে আবার একই স্থান থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশের ঝাপালী অংশেও চারটি বোট দিয়ে বালু তোলার চিত্র দেখা গেছে। বালু উত্তোলনে যুক্ত কয়েকজন শ্রমিক ও বোট মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্দিষ্ট হারে টাকা দিয়ে তারা বালু তুলছেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করেই এ কার্যক্রম চলছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুপোট এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর চর থেকে দুটি বাল্কহেডে বালু তুলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন মাস ধরে সেখানে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে।

শ্যামনগর উপজেলার বিড়ালাক্ষ্মী, কুপোট ও দুর্গবাটি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রতিবছরই তাঁরা ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কেউ কেউ পুরোনো ইজারার নাম ব্যবহার করে বালু তুলছেন।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। কোথাও বালু তোলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, অননুমোদিতভাবে বালু তোলার অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

মেয়াদ শেষেও চলছে বালু উত্তোলন, বাড়ছে ভাঙনের শঙ্কা

প্রকাশের সময় ১০:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার হিজলিয়া মৌজার বালুমহালের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৩ এপ্রিল (৩১ চৈত্র)। নতুন করে ইজারা কার্যকর হওয়ার আগেই আগের ইজারাদারদের প্রভাবে এখনো অব্যাহত রয়েছে বালু উত্তোলন। এতে খোলপেটুয়া নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের শঙ্কা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য নতুন ইজারার আবেদন জমা পড়েছে একাধিক। তবে তার আগেই আগের বছরের ইজারাগ্রহীতারা বিভিন্ন কৌশলে বালু তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে মঙ্গলবার খোলপেটুয়া নদীর ঘোলা এলাকায় দেখা যায়, তিনটি কার্গো দিয়ে খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে। এসব বালু পাশের একটি আড়তে নামিয়ে আবার একই স্থান থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশের ঝাপালী অংশেও চারটি বোট দিয়ে বালু তোলার চিত্র দেখা গেছে। বালু উত্তোলনে যুক্ত কয়েকজন শ্রমিক ও বোট মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্দিষ্ট হারে টাকা দিয়ে তারা বালু তুলছেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করেই এ কার্যক্রম চলছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুপোট এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর চর থেকে দুটি বাল্কহেডে বালু তুলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন মাস ধরে সেখানে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে।

শ্যামনগর উপজেলার বিড়ালাক্ষ্মী, কুপোট ও দুর্গবাটি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রতিবছরই তাঁরা ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কেউ কেউ পুরোনো ইজারার নাম ব্যবহার করে বালু তুলছেন।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। কোথাও বালু তোলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, অননুমোদিতভাবে বালু তোলার অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।