Dhaka মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একই পশুতে কোরবানি ও আকিকা: ধর্মীয় বিধান কী বলছে?

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৯:২৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • / ৬ বার দেখা হয়েছে

কোরবানির নিয়ম

ঈদুল আজহা এলেই অনেক পরিবারের সামনে একটি সাধারণ প্রশ্ন আসে—একই পশু দিয়ে কি কোরবানি ও আকিকা দুটোই আদায় করা যায়? বিশেষ করে যেসব পরিবার সন্তানের জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে আকিকা করতে পারেনি, তারা কোরবানির সময় এই সুযোগ নিতে চান। ইসলামি গবেষক ও আলেমদের ব্যাখ্যায় দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মাজহাবে ভিন্ন মত রয়েছে।

আকিকা হলো সন্তানের জন্মের পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুন্নত আমল। ইসলামের বিধান অনুযায়ী জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। তবে সেদিন সম্ভব না হলে ১৪তম, ২১তম দিন কিংবা পরবর্তীতেও আকিকা করা যায়। এ বিষয়ে কঠোর সময়সীমা নেই।

ইসলামি গবেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, আকিকা সুন্নত হলেও কোরবানি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। অর্থাৎ কোরবানি বাধ্যতামূলক ইবাদত, আর আকিকা উৎসাহিত সুন্নত আমল।

আকিকার ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানের জন্য দুটি এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার কথা বলা হয়েছে। পশু হতে হবে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত। যদিও উট বা গরুর কথাও ইসলামি ইতিহাসে পাওয়া যায়, তবে হাদিসে ছাগলকে অধিক উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা বৈধ। কোরবানির সময় ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

ধর্মীয় আলোচনায় মূল বিতর্কটি হলো—এক পশুতে কি দুই নিয়ত করা যাবে?

হানাফি মাজহাবের অনেক আলেমের মতে, গরু বা উটের মতো ভাগে কোরবানি করা যায় এমন পশুতে এক বা একাধিক ভাগ আকিকার জন্য রাখা বৈধ। অর্থাৎ একটি গরুর এক ভাগ কোরবানি ও আরেক ভাগ আকিকার নিয়তে দেওয়া যেতে পারে।

তবে আহলে হাদিসসহ কিছু মতবাদে কোরবানি ও আকিকাকে আলাদা ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করে একই পশুতে উভয় নিয়তকে সমর্থন করা হয় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহা আব্দুর রশীদ বলেন, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া জরুরি। অর্থাৎ যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তার জন্য কোরবানি আগে গুরুত্ব পাবে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, সামর্থ্য থাকলে আলাদাভাবে কোরবানি ও আকিকা করাই উত্তম। যেমন—গরুতে এক ভাগ কোরবানি দিয়ে সন্তানের আকিকার জন্য আলাদা ছাগল জবাই করা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ চাইলে হানাফি মত অনুসরণ করে একই পশুর অংশে আকিকা ও কোরবানি দুটোই করতে পারেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিষয়ে পরিবার বা সমাজের প্রচলিত ধারণার চেয়ে নিজের অনুসৃত মাজহাব ও বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

একই পশুতে কোরবানি ও আকিকা: ধর্মীয় বিধান কী বলছে?

প্রকাশের সময় ০৯:২৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা এলেই অনেক পরিবারের সামনে একটি সাধারণ প্রশ্ন আসে—একই পশু দিয়ে কি কোরবানি ও আকিকা দুটোই আদায় করা যায়? বিশেষ করে যেসব পরিবার সন্তানের জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে আকিকা করতে পারেনি, তারা কোরবানির সময় এই সুযোগ নিতে চান। ইসলামি গবেষক ও আলেমদের ব্যাখ্যায় দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মাজহাবে ভিন্ন মত রয়েছে।

আকিকা হলো সন্তানের জন্মের পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুন্নত আমল। ইসলামের বিধান অনুযায়ী জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। তবে সেদিন সম্ভব না হলে ১৪তম, ২১তম দিন কিংবা পরবর্তীতেও আকিকা করা যায়। এ বিষয়ে কঠোর সময়সীমা নেই।

ইসলামি গবেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, আকিকা সুন্নত হলেও কোরবানি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। অর্থাৎ কোরবানি বাধ্যতামূলক ইবাদত, আর আকিকা উৎসাহিত সুন্নত আমল।

আকিকার ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানের জন্য দুটি এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার কথা বলা হয়েছে। পশু হতে হবে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত। যদিও উট বা গরুর কথাও ইসলামি ইতিহাসে পাওয়া যায়, তবে হাদিসে ছাগলকে অধিক উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা বৈধ। কোরবানির সময় ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

ধর্মীয় আলোচনায় মূল বিতর্কটি হলো—এক পশুতে কি দুই নিয়ত করা যাবে?

হানাফি মাজহাবের অনেক আলেমের মতে, গরু বা উটের মতো ভাগে কোরবানি করা যায় এমন পশুতে এক বা একাধিক ভাগ আকিকার জন্য রাখা বৈধ। অর্থাৎ একটি গরুর এক ভাগ কোরবানি ও আরেক ভাগ আকিকার নিয়তে দেওয়া যেতে পারে।

তবে আহলে হাদিসসহ কিছু মতবাদে কোরবানি ও আকিকাকে আলাদা ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করে একই পশুতে উভয় নিয়তকে সমর্থন করা হয় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহা আব্দুর রশীদ বলেন, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া জরুরি। অর্থাৎ যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তার জন্য কোরবানি আগে গুরুত্ব পাবে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, সামর্থ্য থাকলে আলাদাভাবে কোরবানি ও আকিকা করাই উত্তম। যেমন—গরুতে এক ভাগ কোরবানি দিয়ে সন্তানের আকিকার জন্য আলাদা ছাগল জবাই করা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ চাইলে হানাফি মত অনুসরণ করে একই পশুর অংশে আকিকা ও কোরবানি দুটোই করতে পারেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিষয়ে পরিবার বা সমাজের প্রচলিত ধারণার চেয়ে নিজের অনুসৃত মাজহাব ও বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।