সাংবাদিকতার কাজ এখন আর শুধু মাঠের তথ্য সংগ্রহ বা ডেস্কে বসে লেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সংবাদ লেখা, সম্পাদনা ও কনটেন্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় এসেছে বড় পরিবর্তন। এই বাস্তবতায় ChatGPT এখন সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্তিশালী সহকারী টুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা সময় বাঁচায়, ভাষা উন্নত করে এবং সংবাদ উপস্থাপনকে আরও কাঠামোবদ্ধ করে। তবে স্পষ্ট বার্তা—ChatGPT সাংবাদিকের বিকল্প নয়; বরং এটি একজন সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করে।
কীভাবে ChatGPT ব্যবহার করে দ্রুত, নির্ভুল ও পেশাদার মানের সংবাদ তৈরি করা যায়। সে বিষয়ে আমাদের জানা আবশ্যক। শুরুতেই সাংবাদিকতার মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরা হয়—একটি ৩০০ শব্দের সংবাদ লিখতে কত সময় লাগে? অংশগ্রহণকারীদের উত্তরকে কেন্দ্র করে বোঝানো হয়, কীভাবে এআই সেই সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
ChatGPT মূলত একটি AI ভাষা মডেল, যা মানুষের প্রশ্ন বুঝে উত্তর তৈরি করে, তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং লেখাকে কাঠামোবদ্ধ করে উপস্থাপন করতে পারে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার এখন বহুমাত্রিক—সংবাদ লেখা, শিরোনাম তৈরি, অনুবাদ, প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে সংবাদে রূপান্তর, প্রুফরিডিং, ফেসবুক পোস্ট ও SEO কনটেন্ট তৈরিসহ নানা কাজে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে প্রশিক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল “প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং” বা কার্যকর নির্দেশনা লেখার কৌশল। অংশগ্রহণকারীদের দেখানো হয়, কীভাবে একটি সাধারণ নির্দেশনা “একটা নিউজ লেখো” দিলে দুর্বল মানের আউটপুট আসে, আর একটি কাঠামোবদ্ধ প্রম্পট—যেখানে ভূমিকা, প্রেক্ষাপট, কাজ ও আউটপুট ফরম্যাট নির্ধারণ করা থাকে—সেখানে অনেক বেশি পেশাদার সংবাদ তৈরি হয়।
এই প্রক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয় “Golden Formula” হিসেবে—Role, Context, Task ও Output Format।
প্রশিক্ষণের লাইভ ডেমো অংশে একটি বাস্তব তথ্য ব্যবহার করা হয়। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা বাজার এলাকায় দ্রুতগতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও দুইজন আহত হওয়ার তথ্য থেকে অংশগ্রহণকারীরা ChatGPT ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ সংবাদ, শিরোনাম, সারাংশ, ফেসবুক পোস্ট এবং ছবির ক্যাপশন তৈরি করেন। এতে বোঝানো হয়, কীভাবে কাঁচা তথ্য থেকে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ নিউজ প্যাকেজ তৈরি করা সম্ভব।
শুধু সংবাদ লেখা নয়, সম্পাদনার ক্ষেত্রেও এআই-এর ব্যবহার তুলে ধরা হয়। বানান ও ব্যাকরণ সংশোধন, ভাষা আরও পেশাদার করা, প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে নিরপেক্ষ সংবাদে রূপান্তর এবং ইংরেজি অনুবাদের মতো কাজগুলোতে ChatGPT সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে পুরো প্রশিক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ছিল এআই-এর সীমাবদ্ধতা। অংশগ্রহণকারীদের জানানো হয়, ChatGPT কখনো কখনো ভুল তথ্য তৈরি করতে পারে, সংখ্যা বা তারিখে ভুল হতে পারে এবং এমনকি কাল্পনিক তথ্যও উপস্থাপন করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ফ্যাক্ট-চেকিং অপরিহার্য।
এই প্রেক্ষিতে একটি মূল নীতি তুলে ধরা হয়—“AI Drafts, Journalist Verifies, Editor Approves”—অর্থাৎ এআই খসড়া তৈরি করবে, সাংবাদিক যাচাই করবেন এবং সম্পাদক চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।
প্রশিক্ষণের শেষ অংশে অংশগ্রহণকারীদের জন্য অনুশীলনের মাধ্যমে সংবাদ লেখা, শিরোনাম তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপযোগী কনটেন্ট তৈরির কাজ করানো হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তির এই পরিবর্তন সাংবাদিকতার পেশাকে বদলে দিচ্ছে, তবে মূল দায়িত্ব একই থাকছে—সত্য, নিরপেক্ষতা এবং জনস্বার্থ রক্ষা। সবশেষে একটি বার্তাই বারবার উঠে আসে—ChatGPT সংবাদ লিখতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতা করতে পারে না।