Dhaka রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বায়োমেট্রিক হাজিরা নয়, বদলাতে হবে ভূমি সেবার সংস্কৃতি

আব্দুর রহমান
  • প্রকাশের সময় ০২:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২০ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশে জমি মানে শুধু কয়েক শতাংশ মাটি নয়। জমি মানে কারও শেষ সম্বল, কারও পৈতৃক উত্তরাধিকার, কারও কৃষিজীবনের ভিত্তি, কারও সারা জীবনের সঞ্চয়। একটি খতিয়ানে ভুল, একটি নামজারি আটকে থাকা কিংবা একটি রেকর্ড সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা—একটি পরিবারের জন্য কখনো কখনো বড় আর্থিক ও সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে। এ কারণেই ভূমি সেবা সাধারণ কোনো সরকারি সেবা নয়; এটি নাগরিকের অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই বাস্তবতার মধ্যে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রে জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ জেলার সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে **Biometric Digital Attendance Device** স্থাপন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এর নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। উদ্দেশ্যও পরিষ্কার—সরকারি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মাঠ পর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করা। বিশেষ করে জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ও যথাসময়ে ভূমি সেবা পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত ও সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। উদ্যোগটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু একটি প্রশ্ন সামনে রাখা জরুরি—**বায়োমেট্রিক হাজিরা কি ভূমি সেবার প্রকৃত সংকটের সমাধান করতে পারবে?

অফিসে উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই শেষ কথা নয়:

সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সময়মতো উপস্থিতি একটি মৌলিক প্রশাসনিক শর্ত। কোনো নাগরিক যদি সেবা নিতে গিয়ে দেখেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিসে নেই, তাহলে তাঁর সময়, অর্থ ও শ্রম—তিনটিই নষ্ট হয়। বিশেষ করে গ্রামের একজন কৃষক বা দিনমজুরের জন্য উপজেলা সদরে একবার যাওয়া মানে অনেক সময় এক দিনের কাজ হারানো। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা অবশ্যই প্রয়োজন।কিন্তু সমস্যা হলো, হাজিরা উপস্থিতি মাপে, সেবা নয়। একজন কর্মকর্তা সকাল ৯টায় অফিসে ঢুকলেন, বায়োমেট্রিকে আঙুলের ছাপ দিলেন—এতে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত হলো। কিন্তু সেই দিন ২০ জন নাগরিকের মধ্যে কতজন সেবা পেলেন? কতটি আবেদন নিষ্পত্তি হলো? কতটি আবেদন অনিষ্পন্ন রইল? কোনো নাগরিককে অপ্রয়োজনে দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার বা দশবার আসতে হলো কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বায়োমেট্রিক হাজিরা দিতে পারে না। এখানেই ভূমি প্রশাসনের পরবর্তী সংস্কারের জায়গা। হাজিরার হিসাবের সঙ্গে সেবার হিসাব যুক্ত করতে হবে। ‘অফিসে ছিলেন’ থেকে ‘কাজটি করেছেন’—জবাবদিহিতা এখানে ভূমি অফিসে একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—‘আমার কাজ কবে হবে?’

এই প্রশ্নের উত্তর যদি নির্দিষ্টভাবে দেওয়া যায়, তাহলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। আর যদি উত্তর হয়—‘দেখি’, ‘কাল আসেন’, ‘ফাইল গেছে’, ‘স্যারের সঙ্গে কথা বলেন’—তাহলে প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও পুরোনো ভোগান্তির সংস্কৃতি থেকেই যায়। তাই প্রতিটি ভূমি সেবার ক্ষেত্রে -কাজের ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি এবং সম্ভাব্য সময়সীমা, স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। একজন নাগরিক যেন ভূমি অফিসে গিয়ে কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে তথ্য পান। অফিসের দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা থাকতে পারে—কোন সেবার জন্য কী প্রয়োজন, কোথায় আবেদন করতে হবে, সরকারি ফি কত, কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা এবং অভিযোগ করার জায়গা কোথায়। এই তথ্য যত বেশি প্রকাশ্য হবে, তত কমবে তথ্যের একচেটিয়াত্ব। আর তথ্যের একচেটিয়াত্ব কমলে দালালনির্ভরতার সুযোগও কমবে।

দালালমুক্ত ভূমি অফিসের লড়াই প্রযুক্তি দিয়েই শুরু হতে পারে:

ভূমি অফিসকে ঘিরে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের উপস্থিতি নিয়ে মানুষের অভিযোগ নতুন নয়। এখানে একটি বিষয় বুঝতে হবে—মানুষ সবসময় দালালের কাছে যায় স্বেচ্ছায় নয়; অনেক সময় **জটিল প্রক্রিয়া, তথ্যের অভাব এবং অনিশ্চয়তা** তাকে মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। তাই দালাল ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ শুধু অভিযান নয়; বরং **প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করা।** প্রতিটি আবেদনের একটি ইউনিক ট্র্যাকিং নম্বর থাকতে পারে। আবেদনকারী মোবাইল ফোনে জানতে পারবেন তাঁর আবেদন কোন পর্যায়ে আছে। কোনো কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে সেটিও তাঁকে জানানো যেতে পারে। তাহলে ‘ফাইল কোথায়?’ জানতে নাগরিককে অফিসে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। একজন নাগরিক যদি ঘরে বসে দেখতে পারেন—‘আমার আবেদন গ্রহণ হয়েছে’, ‘যাচাই চলছে’, ‘অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে’ অথবা ‘নিষ্পত্তি হয়েছে’—তাহলে সেবার বড় একটি অংশই স্বচ্ছ হয়ে যাবে।

বায়োমেট্রিক তথ্যকে কাজে লাগাতে হবে: বায়োমেট্রিক হাজিরা বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু সেই তথ্য যদি শুধু কম্পিউটারের একটি ফাইলে পড়ে থাকে, তাহলে প্রযুক্তির সম্ভাবনা সীমিত হয়ে যায়। প্রশাসন চাইলে হাজিরার তথ্যের সঙ্গে সেবা-সংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। জেলা পর্যায়ে নিয়মিত দেখা যেতে পারে— কোন অফিসে অনুপস্থিতি বেশি, কোন অফিসে আবেদন জমে আছে, কোন ধরনের সেবা বেশি বিলম্বিত হচ্ছে, কোথায় নাগরিক অভিযোগ বেশি এবং কোন অফিসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির হার কম। তখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হবে **তথ্যনির্ভর**, শুধু অভিযোগনির্ভর নয়। তবে এর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। কর্মীদের বায়োমেট্রিক তথ্য বা নাগরিকের ব্যক্তিগত ভূমি-তথ্য যেন অননুমোদিতভাবে প্রকাশ বা ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো থাকতে হবে।

শুধু যন্ত্র বসালেই ডিজিটাল প্রশাসন হয় না: বাংলাদেশে সরকারি দপ্তরে প্রযুক্তি স্থাপনের বহু উদাহরণ আছে। কম্পিউটার এসেছে, সার্ভার এসেছে, অনলাইন ব্যবস্থা এসেছে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরোনো কাগজের ফাইলও চলছে, পাশাপাশি নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাও চলছে। ফলে নাগরিকের কাজ সহজ হওয়ার বদলে কখনো কখনো প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়েছে। বায়োমেট্রিক হাজিরার ক্ষেত্রেও যেন এমন না হয়। প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে—ডিভাইসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হবে, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে এবং যন্ত্র নষ্ট হলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোর বাস্তবতা ঢাকার মতো নয়। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়, কোথাও ইন্টারনেট দুর্বল। ফলে প্রযুক্তি ব্যবস্থার সঙ্গে বাস্তব অবকাঠামোও উন্নত করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ব্যবস্থার অংশ: জবাবদিহিতা মানে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নজরদারির মধ্যে রাখা নয়। একটি ভালো প্রশাসনিক ব্যবস্থা কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, জনবল, প্রযুক্তি ও কাজের পরিবেশও নিশ্চিত করে। কোনো ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যদি জনবল কম থাকে অথচ প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেবা নিতে আসেন, তাহলে শুধু হাজিরার তথ্য দিয়ে সেই অফিসের কর্মদক্ষতা বিচার করলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়বে না। তাই **হাজিরা, কাজের চাপ, সেবার ফলাফল এবং নাগরিক সন্তুষ্টি—সবগুলো সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।** একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত ও ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভালো কাজের স্বীকৃতিও প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহিতা শুধু শাস্তির সংস্কৃতি নয়; এটি দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি।

নাগরিককে করতে হবে ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু: ভূমি প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে যত কথাই বলা হোক, শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মাপকাঠি একজন সাধারণ নাগরিকের অভিজ্ঞতা। সাতক্ষীরার কোনো কৃষক, কুড়িগ্রামের কোনো কৃষক, বরিশালের কোনো গৃহবধূ কিংবা সিলেটের কোনো প্রবাসীর পরিবার—যে-ই ভূমি সেবা নিতে আসুন না কেন, তাঁর জন্য নিয়ম একই হতে হবে। তিনি যেন জানতে পারেন— **কী করতে হবে?
কত টাকা লাগবে? কত দিন লাগবে? কোথায় আবেদন করবেন? আবেদনের অবস্থা কী? সমস্যা হলে কোথায় অভিযোগ করবেন?** এই পাঁচ-ছয়টি প্রশ্নের উত্তর যদি একজন নাগরিক সহজে পান, তাহলে ভূমি সেবায় বড় পরিবর্তন সম্ভব।

ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে হতে হবে ‘সেবা কেন্দ্র’: ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে সামনে রেখে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর কাঠামো নতুন করে ভাবার সুযোগ এসেছে। একটি আদর্শ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে থাকতে পারে ডিজিটাল হাজিরা, নাগরিক তথ্যকেন্দ্র, দৃশ্যমান ফি তালিকা, সেবা-সময়সীমা, আবেদন ট্র্যাকিং, অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সহায়তা। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী, প্রতিবন্ধী এবং প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ নাগরিকদের জন্য সহায়তাকারী ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কারণ ডিজিটাল সেবা তখনই সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব হবে, যখন প্রযুক্তির কারণে কেউ বাদ পড়বেন না।

এখন প্রয়োজন দ্বিতীয় ধাপের সংস্কার

বায়োমেট্রিক হাজিরা তাই শেষ গন্তব্য নয়। এটি হতে পারে একটি বৃহত্তর সংস্কারের প্রথম ধাপ।

প্রথম ধাপ—**কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা।**

দ্বিতীয় ধাপ—**সেবা প্রদানের সময়সীমা নিশ্চিত করা।**

তৃতীয় ধাপ—**প্রতিটি আবেদনকে ট্র্যাকযোগ্য করা।**

চতুর্থ ধাপ—**অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি।**

পঞ্চম ধাপ—**দালালনির্ভরতা কমানো।**

ষষ্ঠ ধাপ—**তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অফিসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন।**

আর সবশেষে—**নাগরিকের সন্তুষ্টিকে সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি করা।**

তখনই প্রযুক্তি প্রশাসনের চরিত্র বদলাতে শুরু করবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর সিদ্ধান্তকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। কারণ মানুষ ভূমি অফিসে যায় হাজিরা দেখতে নয়, **সেবা নিতে।** একজন কৃষক তাঁর জমির কাগজ নিয়ে অফিসে দাঁড়িয়ে আছেন—তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মকর্তা কখন আঙুলের ছাপ দিয়েছেন, তা নয়; তাঁর কাজটি কখন হবে। একজন উত্তরাধিকারী তাঁর পৈতৃক জমির নামজারি করতে এসেছেন—তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফাইল কোন টেবিলে আছে, তা নয়; তাঁর আবেদন কোন পর্যায়ে এবং সিদ্ধান্ত কবে হবে। একজন প্রবাসীর পরিবার জমির কাগজের জন্য অফিসে এসেছে—তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো কতবার অফিসে যেতে হবে, তা নয়; একবারেই সঠিক তথ্য ও সেবা পাওয়া যায় কি না। তাই এখন সময় এসেছে ভূমি প্রশাসনের সাফল্যের সংজ্ঞা নতুন করে লেখার। বায়োমেট্রিক মেশিন বলবে কে অফিসে ছিলেন। ডিজিটাল সেবা বলবে কী কাজ হয়েছে। আর নাগরিকের অভিজ্ঞতা বলবে প্রশাসন কতটা বদলেছে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু **‘অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা’ নয়, ‘উপস্থিত ও দায়িত্বশীল প্রশাসন’।** ভূমি সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার তখনই সার্থক হবে, যখন একটি সাধারণ মানুষ অফিস থেকে বেরিয়ে মনে করবেন—**আমার সময়ের মূল্য আছে, আমার অধিকার আছে এবং আমার সেবা পাওয়ার জন্য কারও অনুগ্রহের প্রয়োজন নেই।** সেই পরিবর্তনই হওয়া উচিত বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর পরবর্তী বড় লক্ষ্য।

সম্পর্কিত

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

পছন্দের চিকিৎসকের সিরিয়াল নিতে ক্লিক করুন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

বায়োমেট্রিক হাজিরা নয়, বদলাতে হবে ভূমি সেবার সংস্কৃতি

প্রকাশের সময় ০২:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে জমি মানে শুধু কয়েক শতাংশ মাটি নয়। জমি মানে কারও শেষ সম্বল, কারও পৈতৃক উত্তরাধিকার, কারও কৃষিজীবনের ভিত্তি, কারও সারা জীবনের সঞ্চয়। একটি খতিয়ানে ভুল, একটি নামজারি আটকে থাকা কিংবা একটি রেকর্ড সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা—একটি পরিবারের জন্য কখনো কখনো বড় আর্থিক ও সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে। এ কারণেই ভূমি সেবা সাধারণ কোনো সরকারি সেবা নয়; এটি নাগরিকের অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই বাস্তবতার মধ্যে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রে জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ জেলার সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে **Biometric Digital Attendance Device** স্থাপন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এর নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। উদ্দেশ্যও পরিষ্কার—সরকারি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মাঠ পর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করা। বিশেষ করে জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ও যথাসময়ে ভূমি সেবা পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত ও সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। উদ্যোগটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু একটি প্রশ্ন সামনে রাখা জরুরি—**বায়োমেট্রিক হাজিরা কি ভূমি সেবার প্রকৃত সংকটের সমাধান করতে পারবে?

অফিসে উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই শেষ কথা নয়:

সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সময়মতো উপস্থিতি একটি মৌলিক প্রশাসনিক শর্ত। কোনো নাগরিক যদি সেবা নিতে গিয়ে দেখেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিসে নেই, তাহলে তাঁর সময়, অর্থ ও শ্রম—তিনটিই নষ্ট হয়। বিশেষ করে গ্রামের একজন কৃষক বা দিনমজুরের জন্য উপজেলা সদরে একবার যাওয়া মানে অনেক সময় এক দিনের কাজ হারানো। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা অবশ্যই প্রয়োজন।কিন্তু সমস্যা হলো, হাজিরা উপস্থিতি মাপে, সেবা নয়। একজন কর্মকর্তা সকাল ৯টায় অফিসে ঢুকলেন, বায়োমেট্রিকে আঙুলের ছাপ দিলেন—এতে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত হলো। কিন্তু সেই দিন ২০ জন নাগরিকের মধ্যে কতজন সেবা পেলেন? কতটি আবেদন নিষ্পত্তি হলো? কতটি আবেদন অনিষ্পন্ন রইল? কোনো নাগরিককে অপ্রয়োজনে দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার বা দশবার আসতে হলো কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বায়োমেট্রিক হাজিরা দিতে পারে না। এখানেই ভূমি প্রশাসনের পরবর্তী সংস্কারের জায়গা। হাজিরার হিসাবের সঙ্গে সেবার হিসাব যুক্ত করতে হবে। ‘অফিসে ছিলেন’ থেকে ‘কাজটি করেছেন’—জবাবদিহিতা এখানে ভূমি অফিসে একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—‘আমার কাজ কবে হবে?’

এই প্রশ্নের উত্তর যদি নির্দিষ্টভাবে দেওয়া যায়, তাহলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। আর যদি উত্তর হয়—‘দেখি’, ‘কাল আসেন’, ‘ফাইল গেছে’, ‘স্যারের সঙ্গে কথা বলেন’—তাহলে প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও পুরোনো ভোগান্তির সংস্কৃতি থেকেই যায়। তাই প্রতিটি ভূমি সেবার ক্ষেত্রে -কাজের ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি এবং সম্ভাব্য সময়সীমা, স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। একজন নাগরিক যেন ভূমি অফিসে গিয়ে কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে তথ্য পান। অফিসের দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা থাকতে পারে—কোন সেবার জন্য কী প্রয়োজন, কোথায় আবেদন করতে হবে, সরকারি ফি কত, কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা এবং অভিযোগ করার জায়গা কোথায়। এই তথ্য যত বেশি প্রকাশ্য হবে, তত কমবে তথ্যের একচেটিয়াত্ব। আর তথ্যের একচেটিয়াত্ব কমলে দালালনির্ভরতার সুযোগও কমবে।

দালালমুক্ত ভূমি অফিসের লড়াই প্রযুক্তি দিয়েই শুরু হতে পারে:

ভূমি অফিসকে ঘিরে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের উপস্থিতি নিয়ে মানুষের অভিযোগ নতুন নয়। এখানে একটি বিষয় বুঝতে হবে—মানুষ সবসময় দালালের কাছে যায় স্বেচ্ছায় নয়; অনেক সময় **জটিল প্রক্রিয়া, তথ্যের অভাব এবং অনিশ্চয়তা** তাকে মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। তাই দালাল ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ শুধু অভিযান নয়; বরং **প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করা।** প্রতিটি আবেদনের একটি ইউনিক ট্র্যাকিং নম্বর থাকতে পারে। আবেদনকারী মোবাইল ফোনে জানতে পারবেন তাঁর আবেদন কোন পর্যায়ে আছে। কোনো কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে সেটিও তাঁকে জানানো যেতে পারে। তাহলে ‘ফাইল কোথায়?’ জানতে নাগরিককে অফিসে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। একজন নাগরিক যদি ঘরে বসে দেখতে পারেন—‘আমার আবেদন গ্রহণ হয়েছে’, ‘যাচাই চলছে’, ‘অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে’ অথবা ‘নিষ্পত্তি হয়েছে’—তাহলে সেবার বড় একটি অংশই স্বচ্ছ হয়ে যাবে।

বায়োমেট্রিক তথ্যকে কাজে লাগাতে হবে: বায়োমেট্রিক হাজিরা বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু সেই তথ্য যদি শুধু কম্পিউটারের একটি ফাইলে পড়ে থাকে, তাহলে প্রযুক্তির সম্ভাবনা সীমিত হয়ে যায়। প্রশাসন চাইলে হাজিরার তথ্যের সঙ্গে সেবা-সংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। জেলা পর্যায়ে নিয়মিত দেখা যেতে পারে— কোন অফিসে অনুপস্থিতি বেশি, কোন অফিসে আবেদন জমে আছে, কোন ধরনের সেবা বেশি বিলম্বিত হচ্ছে, কোথায় নাগরিক অভিযোগ বেশি এবং কোন অফিসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির হার কম। তখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হবে **তথ্যনির্ভর**, শুধু অভিযোগনির্ভর নয়। তবে এর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। কর্মীদের বায়োমেট্রিক তথ্য বা নাগরিকের ব্যক্তিগত ভূমি-তথ্য যেন অননুমোদিতভাবে প্রকাশ বা ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো থাকতে হবে।

শুধু যন্ত্র বসালেই ডিজিটাল প্রশাসন হয় না: বাংলাদেশে সরকারি দপ্তরে প্রযুক্তি স্থাপনের বহু উদাহরণ আছে। কম্পিউটার এসেছে, সার্ভার এসেছে, অনলাইন ব্যবস্থা এসেছে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরোনো কাগজের ফাইলও চলছে, পাশাপাশি নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাও চলছে। ফলে নাগরিকের কাজ সহজ হওয়ার বদলে কখনো কখনো প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়েছে। বায়োমেট্রিক হাজিরার ক্ষেত্রেও যেন এমন না হয়। প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে—ডিভাইসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হবে, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে এবং যন্ত্র নষ্ট হলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোর বাস্তবতা ঢাকার মতো নয়। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়, কোথাও ইন্টারনেট দুর্বল। ফলে প্রযুক্তি ব্যবস্থার সঙ্গে বাস্তব অবকাঠামোও উন্নত করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ব্যবস্থার অংশ: জবাবদিহিতা মানে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নজরদারির মধ্যে রাখা নয়। একটি ভালো প্রশাসনিক ব্যবস্থা কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, জনবল, প্রযুক্তি ও কাজের পরিবেশও নিশ্চিত করে। কোনো ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যদি জনবল কম থাকে অথচ প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেবা নিতে আসেন, তাহলে শুধু হাজিরার তথ্য দিয়ে সেই অফিসের কর্মদক্ষতা বিচার করলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়বে না। তাই **হাজিরা, কাজের চাপ, সেবার ফলাফল এবং নাগরিক সন্তুষ্টি—সবগুলো সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।** একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত ও ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভালো কাজের স্বীকৃতিও প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহিতা শুধু শাস্তির সংস্কৃতি নয়; এটি দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি।

নাগরিককে করতে হবে ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু: ভূমি প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে যত কথাই বলা হোক, শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মাপকাঠি একজন সাধারণ নাগরিকের অভিজ্ঞতা। সাতক্ষীরার কোনো কৃষক, কুড়িগ্রামের কোনো কৃষক, বরিশালের কোনো গৃহবধূ কিংবা সিলেটের কোনো প্রবাসীর পরিবার—যে-ই ভূমি সেবা নিতে আসুন না কেন, তাঁর জন্য নিয়ম একই হতে হবে। তিনি যেন জানতে পারেন— **কী করতে হবে?
কত টাকা লাগবে? কত দিন লাগবে? কোথায় আবেদন করবেন? আবেদনের অবস্থা কী? সমস্যা হলে কোথায় অভিযোগ করবেন?** এই পাঁচ-ছয়টি প্রশ্নের উত্তর যদি একজন নাগরিক সহজে পান, তাহলে ভূমি সেবায় বড় পরিবর্তন সম্ভব।

ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে হতে হবে ‘সেবা কেন্দ্র’: ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে সামনে রেখে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর কাঠামো নতুন করে ভাবার সুযোগ এসেছে। একটি আদর্শ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে থাকতে পারে ডিজিটাল হাজিরা, নাগরিক তথ্যকেন্দ্র, দৃশ্যমান ফি তালিকা, সেবা-সময়সীমা, আবেদন ট্র্যাকিং, অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সহায়তা। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী, প্রতিবন্ধী এবং প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ নাগরিকদের জন্য সহায়তাকারী ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কারণ ডিজিটাল সেবা তখনই সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব হবে, যখন প্রযুক্তির কারণে কেউ বাদ পড়বেন না।

এখন প্রয়োজন দ্বিতীয় ধাপের সংস্কার

বায়োমেট্রিক হাজিরা তাই শেষ গন্তব্য নয়। এটি হতে পারে একটি বৃহত্তর সংস্কারের প্রথম ধাপ।

প্রথম ধাপ—**কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা।**

দ্বিতীয় ধাপ—**সেবা প্রদানের সময়সীমা নিশ্চিত করা।**

তৃতীয় ধাপ—**প্রতিটি আবেদনকে ট্র্যাকযোগ্য করা।**

চতুর্থ ধাপ—**অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি।**

পঞ্চম ধাপ—**দালালনির্ভরতা কমানো।**

ষষ্ঠ ধাপ—**তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অফিসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন।**

আর সবশেষে—**নাগরিকের সন্তুষ্টিকে সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি করা।**

তখনই প্রযুক্তি প্রশাসনের চরিত্র বদলাতে শুরু করবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর সিদ্ধান্তকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। কারণ মানুষ ভূমি অফিসে যায় হাজিরা দেখতে নয়, **সেবা নিতে।** একজন কৃষক তাঁর জমির কাগজ নিয়ে অফিসে দাঁড়িয়ে আছেন—তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মকর্তা কখন আঙুলের ছাপ দিয়েছেন, তা নয়; তাঁর কাজটি কখন হবে। একজন উত্তরাধিকারী তাঁর পৈতৃক জমির নামজারি করতে এসেছেন—তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফাইল কোন টেবিলে আছে, তা নয়; তাঁর আবেদন কোন পর্যায়ে এবং সিদ্ধান্ত কবে হবে। একজন প্রবাসীর পরিবার জমির কাগজের জন্য অফিসে এসেছে—তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো কতবার অফিসে যেতে হবে, তা নয়; একবারেই সঠিক তথ্য ও সেবা পাওয়া যায় কি না। তাই এখন সময় এসেছে ভূমি প্রশাসনের সাফল্যের সংজ্ঞা নতুন করে লেখার। বায়োমেট্রিক মেশিন বলবে কে অফিসে ছিলেন। ডিজিটাল সেবা বলবে কী কাজ হয়েছে। আর নাগরিকের অভিজ্ঞতা বলবে প্রশাসন কতটা বদলেছে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু **‘অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা’ নয়, ‘উপস্থিত ও দায়িত্বশীল প্রশাসন’।** ভূমি সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার তখনই সার্থক হবে, যখন একটি সাধারণ মানুষ অফিস থেকে বেরিয়ে মনে করবেন—**আমার সময়ের মূল্য আছে, আমার অধিকার আছে এবং আমার সেবা পাওয়ার জন্য কারও অনুগ্রহের প্রয়োজন নেই।** সেই পরিবর্তনই হওয়া উচিত বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর পরবর্তী বড় লক্ষ্য।