Dhaka 9:19 pm, Thursday, 22 October 2026
[gtranslate]

হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলের মাটির ক্ষোপ, রয়ে গেছে স্মৃতি

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:02:15 pm, Thursday, 22 October 2026
  • 2 Time View

একসময় উপকূলীয় জনপদের অনেক বাড়িতে দেখা যেত মাটির তৈরি ক্ষোপ। ঘরের কোণে কিংবা রান্নাঘরের পাশে রাখা এই পাত্রে পানি জমিয়ে রাখতেন পরিবারের নারীরা। প্রয়োজনমতো সেখান থেকে পানি নিতেন। পানি ফুরিয়ে গেলে আবার ভরে রাখতেন। সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন আর সহজে চোখে পড়ে না।

সম্প্রতি নিজের শরীরে জ্বর আসার পর পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে লেখকের। মনে পড়ে মা-চাচিদের দৈনন্দিন জীবনে দেখা সেই পরিচিত দৃশ্য—মাটির ক্ষোপে পানি ভরে রাখা, সংসারের কাজের ফাঁকে সেখান থেকে পানি নেওয়া। একসময় যা ছিল জীবনের স্বাভাবিক অংশ, এখন তা স্মৃতির বিষয়।

গ্রামীণ জীবনে মাটির তৈরি নানা সামগ্রীর ব্যবহার ছিল। মাটির হাঁড়ি, কলস ও পাতিলের পাশাপাশি ক্ষোপও ব্যবহৃত হতো বলে লেখক স্মরণ করেছেন। তখন পানি সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের জার কিংবা বোতলের ব্যবহার এতটা ব্যাপক ছিল না। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মাটির তৈরি এসব সামগ্রীর ওপর নির্ভর করতেন অনেক মানুষ।

ক্ষোপের ব্যবহার শুধু একটি পাত্রে পানি রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পরিবারের মানুষের অভ্যাস, ঘরকন্নার কাজ এবং একসময়ের গ্রামীণ জীবনযাত্রা। বিশেষ করে প্রবীণ নারীদের স্মৃতিতে এসব ছোটখাটো অনুষঙ্গ এখনো জায়গা করে আছে।

সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। পানি সংরক্ষণে এখন প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও জারের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে মাটির তৈরি অনেক পুরোনো সামগ্রীর ব্যবহার কমে গেছে। ক্ষোপও সেই পরিবর্তনের বাইরে নয়।

তবে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষোপের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন। স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে এর আঞ্চলিক নাম, গঠন ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

একটি পুরোনো পাত্র হারিয়ে যাওয়া হয়তো সময়ের স্বাভাবিক পরিবর্তন। কিন্তু এর সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে একটি জনপদের জীবনযাত্রার ইতিহাসও। কারণ, ইতিহাস শুধু বড় ঘটনা বা স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে অতীতের পরিচয়।

এ কারণে প্রবীণদের স্মৃতিতে থাকা পুরোনো সামগ্রীর নাম, ছবি ও ব্যবহারবিধি সংগ্রহ করে রাখা জরুরি। এতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আগে মানুষ কীভাবে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাত।

লেখকের জ্বরের সময় মনে পড়া মা-চাচিদের সেই স্মৃতি তাই কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; এটি বদলে যাওয়া গ্রামীণ জীবনেরও একটি ছবি। একসময় ঘরের কোণে থাকা মাটির ক্ষোপ আজ দুর্লভ হয়ে উঠলেও, তাকে ঘিরে থাকা স্মৃতি এখনো বেঁচে আছে মানুষের মনে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলের মাটির ক্ষোপ, রয়ে গেছে স্মৃতি

Update Time : 02:02:15 pm, Thursday, 22 October 2026

একসময় উপকূলীয় জনপদের অনেক বাড়িতে দেখা যেত মাটির তৈরি ক্ষোপ। ঘরের কোণে কিংবা রান্নাঘরের পাশে রাখা এই পাত্রে পানি জমিয়ে রাখতেন পরিবারের নারীরা। প্রয়োজনমতো সেখান থেকে পানি নিতেন। পানি ফুরিয়ে গেলে আবার ভরে রাখতেন। সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন আর সহজে চোখে পড়ে না।

সম্প্রতি নিজের শরীরে জ্বর আসার পর পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে লেখকের। মনে পড়ে মা-চাচিদের দৈনন্দিন জীবনে দেখা সেই পরিচিত দৃশ্য—মাটির ক্ষোপে পানি ভরে রাখা, সংসারের কাজের ফাঁকে সেখান থেকে পানি নেওয়া। একসময় যা ছিল জীবনের স্বাভাবিক অংশ, এখন তা স্মৃতির বিষয়।

গ্রামীণ জীবনে মাটির তৈরি নানা সামগ্রীর ব্যবহার ছিল। মাটির হাঁড়ি, কলস ও পাতিলের পাশাপাশি ক্ষোপও ব্যবহৃত হতো বলে লেখক স্মরণ করেছেন। তখন পানি সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের জার কিংবা বোতলের ব্যবহার এতটা ব্যাপক ছিল না। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মাটির তৈরি এসব সামগ্রীর ওপর নির্ভর করতেন অনেক মানুষ।

ক্ষোপের ব্যবহার শুধু একটি পাত্রে পানি রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পরিবারের মানুষের অভ্যাস, ঘরকন্নার কাজ এবং একসময়ের গ্রামীণ জীবনযাত্রা। বিশেষ করে প্রবীণ নারীদের স্মৃতিতে এসব ছোটখাটো অনুষঙ্গ এখনো জায়গা করে আছে।

সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। পানি সংরক্ষণে এখন প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও জারের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে মাটির তৈরি অনেক পুরোনো সামগ্রীর ব্যবহার কমে গেছে। ক্ষোপও সেই পরিবর্তনের বাইরে নয়।

তবে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষোপের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন। স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে এর আঞ্চলিক নাম, গঠন ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

একটি পুরোনো পাত্র হারিয়ে যাওয়া হয়তো সময়ের স্বাভাবিক পরিবর্তন। কিন্তু এর সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে একটি জনপদের জীবনযাত্রার ইতিহাসও। কারণ, ইতিহাস শুধু বড় ঘটনা বা স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে অতীতের পরিচয়।

এ কারণে প্রবীণদের স্মৃতিতে থাকা পুরোনো সামগ্রীর নাম, ছবি ও ব্যবহারবিধি সংগ্রহ করে রাখা জরুরি। এতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আগে মানুষ কীভাবে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাত।

লেখকের জ্বরের সময় মনে পড়া মা-চাচিদের সেই স্মৃতি তাই কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; এটি বদলে যাওয়া গ্রামীণ জীবনেরও একটি ছবি। একসময় ঘরের কোণে থাকা মাটির ক্ষোপ আজ দুর্লভ হয়ে উঠলেও, তাকে ঘিরে থাকা স্মৃতি এখনো বেঁচে আছে মানুষের মনে।