বাংলাদেশ 2:19 am, Thursday, 29 October 2026

মর্দনলীলা

  • মোবাররম হায়দার

মর্দন করে পিষ্ট করে সহ্য অতি দূর,
মর্দনের ভারে নুয়ে পড়ে শক্ত খাড়া পুর।

মর্দন ঠিক মানে না হিয়া মর্দনে তার মন,
এ বাঙালপুত্র প্রকৃতি মর্দনই তার পণ।

চেটে খাওয়া তার পদ আশ্রয়ে খুঁজিতে আলয়,
তাই অবুঝ মনে করে যায় মর্দন প্রলয়।

মালুম শুধুই নেত্র নিসফে বুঝের অভাব হায়,
সে বুঝেছে সবি বুঝেনি কেবল কার তরে সুধায়।

মর্দন করো, করো রে লেপন করিও না ক্ষয়,
আজি আসরে মর্দনের হলো জয় নিশ্চয়।

মোবাররম হায়দারের ‘মর্দন’ কবিতায় আধিপত্য, পদলেহন, আত্মসমর্পণ এবং ক্ষমতার কাছে নতিস্বীকারের প্রবণতা ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। কবিতার ‘মর্দন’ শব্দটি এখানে শুধু শারীরিক পিষ্টকরণ বা দলনের অর্থে ব্যবহৃত হয়নি; বরং এর মধ্য দিয়ে আত্মমর্যাদা বিসর্জন, অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার এবং ক্ষমতাবানকে তুষ্ট করার মানসিকতাকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কবি দেখিয়েছেন, দীর্ঘদিনের নিপীড়ন মানুষকে নত করে দিতে পারে, কিন্তু সেই নতিস্বীকারের পেছনে কখনো কখনো কাজ করে স্বার্থ, আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা কিংবা ক্ষমতাবানের অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা। অন্যদিকে, বিবেচনাবোধের অভাবে মানুষ অনেক সময় বুঝতে পারে না, তার আনুগত্য আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করছে।

কবিতার শেষ পঙ্‌ক্তিতে ‘মর্দনের জয়’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে কবি এমন এক বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে আত্মমর্যাদা ও বিবেকের চেয়ে তোষামোদ এবং ক্ষমতার প্রভাবই প্রাধান্য পায়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

মর্দনলীলা

মর্দনলীলা

প্রকাশ 10:40:24 pm, Wednesday, 28 October 2026
  • মোবাররম হায়দার

মর্দন করে পিষ্ট করে সহ্য অতি দূর,
মর্দনের ভারে নুয়ে পড়ে শক্ত খাড়া পুর।

মর্দন ঠিক মানে না হিয়া মর্দনে তার মন,
এ বাঙালপুত্র প্রকৃতি মর্দনই তার পণ।

চেটে খাওয়া তার পদ আশ্রয়ে খুঁজিতে আলয়,
তাই অবুঝ মনে করে যায় মর্দন প্রলয়।

মালুম শুধুই নেত্র নিসফে বুঝের অভাব হায়,
সে বুঝেছে সবি বুঝেনি কেবল কার তরে সুধায়।

মর্দন করো, করো রে লেপন করিও না ক্ষয়,
আজি আসরে মর্দনের হলো জয় নিশ্চয়।

মোবাররম হায়দারের ‘মর্দন’ কবিতায় আধিপত্য, পদলেহন, আত্মসমর্পণ এবং ক্ষমতার কাছে নতিস্বীকারের প্রবণতা ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। কবিতার ‘মর্দন’ শব্দটি এখানে শুধু শারীরিক পিষ্টকরণ বা দলনের অর্থে ব্যবহৃত হয়নি; বরং এর মধ্য দিয়ে আত্মমর্যাদা বিসর্জন, অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার এবং ক্ষমতাবানকে তুষ্ট করার মানসিকতাকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কবি দেখিয়েছেন, দীর্ঘদিনের নিপীড়ন মানুষকে নত করে দিতে পারে, কিন্তু সেই নতিস্বীকারের পেছনে কখনো কখনো কাজ করে স্বার্থ, আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা কিংবা ক্ষমতাবানের অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা। অন্যদিকে, বিবেচনাবোধের অভাবে মানুষ অনেক সময় বুঝতে পারে না, তার আনুগত্য আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করছে।

কবিতার শেষ পঙ্‌ক্তিতে ‘মর্দনের জয়’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে কবি এমন এক বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে আত্মমর্যাদা ও বিবেকের চেয়ে তোষামোদ এবং ক্ষমতার প্রভাবই প্রাধান্য পায়।