বাংলাদেশ 7:24 pm, Wednesday, 28 October 2026
সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ

অন্ধ্র-ওড়িশায় আছড়ে পড়লো ‘অর্ণব’

ঢাকা: ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে ছয় ঘণ্টারও বেশি। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) স্কেলে এটি ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে উপকূলে আঘাত হানে, যা তীব্রতার দিক থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত এক সংবাদ বুলেটিনে আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের ওপর অবস্থান করছে।

ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান নিয়ে আবহাওয়া দপ্তর জানায়, এটি নরসাপুরের প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে, ইয়ানামের ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কাকিনাদার ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং মছলিপত্তনমের ৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থান করছিলো।

আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ সঙ্কেত বলছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করায় এর উপকূলে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করার সময় অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। তবে সকাল সাড়ে আটটার দিকে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’-এ পরিণত হয়।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা ও তৎসংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার বেশ কয়েকটি জেলায় প্রবল ও ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভয়াবহ ঝুঁকি এড়াতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো থেকে এক লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টিপাতের চিত্রে দেখা যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া বিজয়নগরে ৩০১ মিলিমিটার, আনাকাপল্লিতে ২৭৫ মিলিমিটার, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ মিলিমিটার এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বুধবারের বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী সব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে ওড়িশার কোরাপুট জেলায় ১৮৮ মিলিমিটার, গঞ্জাম জেলায় ১৬১ মিলিমিটার এবং গজপতি জেলায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং ব্যাপক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেন পরিষেবাও বাতিল করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রাজ্যেই প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবারও একই রকম ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এই ঘূর্ণিঝড়টির ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছিলো। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের ঘূর্ণিঝড় বিষয়ক প্যানেল কর্তৃক ২০২০ সালে গৃহীত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের আনুষ্ঠানিক তালিকায় এই নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘অর্ণব’ শব্দটি সাধারণত সমুদ্র বা মহাসাগর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

আইএমডির তালিকা অনুযায়ী, উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন—প্রতিটি ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নাম প্রস্তাব করেছে।

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে নতুন কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে এই তালিকা থেকেই ক্রমানুসারে নামটি নির্ধারণ করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সুনির্দিষ্ট নামকরণ সাধারণ মানুষকে প্রতিটি আবহাওয়া ব্যবস্থাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে ও সতর্ক থাকতে সাহায্য করে, পাশাপাশি একই সময়ে একাধিক ঝড় হলে বিভ্রান্তি এড়ানো সহজ হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ

অন্ধ্র-ওড়িশায় আছড়ে পড়লো ‘অর্ণব’

প্রকাশ 01:18:29 pm, Wednesday, 28 October 2026

ঢাকা: ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে ছয় ঘণ্টারও বেশি। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) স্কেলে এটি ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে উপকূলে আঘাত হানে, যা তীব্রতার দিক থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত এক সংবাদ বুলেটিনে আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের ওপর অবস্থান করছে।

ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান নিয়ে আবহাওয়া দপ্তর জানায়, এটি নরসাপুরের প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে, ইয়ানামের ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কাকিনাদার ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং মছলিপত্তনমের ৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থান করছিলো।

আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ সঙ্কেত বলছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করায় এর উপকূলে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করার সময় অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। তবে সকাল সাড়ে আটটার দিকে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’-এ পরিণত হয়।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা ও তৎসংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার বেশ কয়েকটি জেলায় প্রবল ও ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভয়াবহ ঝুঁকি এড়াতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো থেকে এক লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টিপাতের চিত্রে দেখা যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া বিজয়নগরে ৩০১ মিলিমিটার, আনাকাপল্লিতে ২৭৫ মিলিমিটার, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ মিলিমিটার এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বুধবারের বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী সব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে ওড়িশার কোরাপুট জেলায় ১৮৮ মিলিমিটার, গঞ্জাম জেলায় ১৬১ মিলিমিটার এবং গজপতি জেলায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং ব্যাপক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেন পরিষেবাও বাতিল করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রাজ্যেই প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবারও একই রকম ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এই ঘূর্ণিঝড়টির ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছিলো। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের ঘূর্ণিঝড় বিষয়ক প্যানেল কর্তৃক ২০২০ সালে গৃহীত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের আনুষ্ঠানিক তালিকায় এই নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘অর্ণব’ শব্দটি সাধারণত সমুদ্র বা মহাসাগর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

আইএমডির তালিকা অনুযায়ী, উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন—প্রতিটি ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নাম প্রস্তাব করেছে।

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে নতুন কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে এই তালিকা থেকেই ক্রমানুসারে নামটি নির্ধারণ করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সুনির্দিষ্ট নামকরণ সাধারণ মানুষকে প্রতিটি আবহাওয়া ব্যবস্থাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে ও সতর্ক থাকতে সাহায্য করে, পাশাপাশি একই সময়ে একাধিক ঝড় হলে বিভ্রান্তি এড়ানো সহজ হয়।