Dhaka শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারের ভেতর যে জয়

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০২:৪৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৭ বার দেখা হয়েছে

খালিদ, আব্দুল্লাহ, শিহাব, শুভ আর রাশেদ—একই স্কুলের ক্রিকেট দলের পাঁচ বন্ধু। খালিদ ছিল সবচেয়ে প্রতিযোগিতামুখী। তার বিশ্বাস, <span;>“দ্বিতীয় হওয়া মানেই প্রথম হারানো।”
জেলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী সেন্ট মেরিজ স্কুল। ম্যাচের আগের দিন খালিদ বলেছিল,
—এবার চ্যাম্পিয়ন হবই। না হলে ক্রিকেটই ছেড়ে দেব।
আব্দুল্লাহ মৃদু হেসে বলেছিল,
—খেলা শুধু জেতার জন্য নয়, খালিদ।
—তুমি তো সব সময়ই সফট!—হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল খালিদ।
ফাইনাল শুরু হলো। খালিদ প্রথম ওভারে পরপর দুটি চার মারল। কিন্তু পরের ওভারেই আউট। মাঠ ছাড়তে ছাড়তে ক্ষুব্ধ হয়ে বলল,
—আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত!
শেষ ওভারে তাদের দরকার বারো রান। শুভ প্রথম বলেই ছক্কা মারল। কিন্তু পরের দুই বলে শুভ ও আব্দুল্লাহ আউট। শেষ পর্যন্ত তারা হারল তিন রানে।
মাঠে নেমে এলো নীরবতা।
খালিদ রাগে ব্যাটটি মাটিতে আছাড় মারতে উদ্যত হলে রাশেদ তার হাত চেপে ধরল।
—ব্যাট ভাঙলে কী হবে? হারটা কি মুছে যাবে?
খালিদ কিছু বলল না।
রাশেদ বলল,
—গত মাসে দাবা প্রতিযোগিতায় ফাইনালে হেরেছিলাম। কোচ বলেছিলেন, “জয় তোমাকে পুরস্কার দেয়, আর হার তোমাকে শিক্ষা দেয়।” তারপর প্রতিপক্ষের চালগুলো বিশ্লেষণ করে নতুন কৌশল শিখেছিলাম।
শুভ বলল,
—হারলে লজ্জা নেই। একই ভুল আবার করলে লজ্জা।
আব্দুল্লাহ যোগ করল,
—আমি ছোটবেলায় দৌড়ে প্রায়ই শেষ হতাম। প্রতিবার হেরেই নিজের ভুল খুঁজেছি। আজ আমি স্কুলের সেরা রানারদের একজন।
শিহাব হেসে বলল,
—প্রথম ম্যাচে ক্যাচ ফেলেছিলাম। সবাই হেসেছিল। সেদিনই শিখেছিলাম—ভুলের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, পরের ক্যাচটা ধরার প্রস্তুতি নিতে হবে।
সেই রাতে খালিদের ঘুম হলো না। সে ভাবল, <span;>জিতলে সে শুধু উদযাপন করেছে; হারলেই প্রথমবার নিজের ভুলগুলো দেখতে পেয়েছে।
পরদিন সে বন্ধুদের ডেকে বলল,
—কাল আমি ভুল করেছি। হারকে অপমান ভেবেছিলাম। আজ থেকে এটাকে শিক্ষা হিসেবে নেব।
পাঁচ বন্ধু মিলে পুরো ম্যাচের ভিডিও দেখল। কোথায় ভুল হয়েছে, কোন সিদ্ধান্ত বদলানো যেত—সব লিখে ফেলল। শুরু হলো নতুন অনুশীলন।
এক মাস পর আবার ফাইনাল। প্রতিপক্ষ সেই সেন্ট মেরিজ।
এবার খালিদ প্রথম ওভারেই আউট হলো। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় হাসল।
—ওদের বোলার দারুণ করেছে। এবার ওকে কীভাবে খেলতে হবে, সেটা শিখলাম।

শেষ ওভারে আবারও দরকার বারো রান। শেষ বলে ছক্কা মেরে শুভ দলকে জিতিয়ে দিল।
খালিদ দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।
ট্রফি হাতে নিয়ে সে বলল,
—আজকের জয়টা আসলে আজ শুরু হয়নি। শুরু হয়েছিল যেদিন আমরা তিন রানে হেরেছিলাম।
প্রধান শিক্ষক মঞ্চে উঠে বললেন,
—তোমরা শুধু একটি ম্যাচ জেতোনি; তোমরা শিখেছ কীভাবে হারকে শক্তিতে পরিণত করতে হয়।
সেদিন থেকে পাঁচ বন্ধু জুনিয়রদের একটি কথাই শেখায়—
“হার মানে পথের শেষ নয়; কখনো কখনো হারই নতুন জয়ের প্রথম পাঠ।”

সম্পর্কিত

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

হারের ভেতর যে জয়

প্রকাশের সময় ০২:৪৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

খালিদ, আব্দুল্লাহ, শিহাব, শুভ আর রাশেদ—একই স্কুলের ক্রিকেট দলের পাঁচ বন্ধু। খালিদ ছিল সবচেয়ে প্রতিযোগিতামুখী। তার বিশ্বাস, <span;>“দ্বিতীয় হওয়া মানেই প্রথম হারানো।”
জেলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী সেন্ট মেরিজ স্কুল। ম্যাচের আগের দিন খালিদ বলেছিল,
—এবার চ্যাম্পিয়ন হবই। না হলে ক্রিকেটই ছেড়ে দেব।
আব্দুল্লাহ মৃদু হেসে বলেছিল,
—খেলা শুধু জেতার জন্য নয়, খালিদ।
—তুমি তো সব সময়ই সফট!—হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল খালিদ।
ফাইনাল শুরু হলো। খালিদ প্রথম ওভারে পরপর দুটি চার মারল। কিন্তু পরের ওভারেই আউট। মাঠ ছাড়তে ছাড়তে ক্ষুব্ধ হয়ে বলল,
—আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত!
শেষ ওভারে তাদের দরকার বারো রান। শুভ প্রথম বলেই ছক্কা মারল। কিন্তু পরের দুই বলে শুভ ও আব্দুল্লাহ আউট। শেষ পর্যন্ত তারা হারল তিন রানে।
মাঠে নেমে এলো নীরবতা।
খালিদ রাগে ব্যাটটি মাটিতে আছাড় মারতে উদ্যত হলে রাশেদ তার হাত চেপে ধরল।
—ব্যাট ভাঙলে কী হবে? হারটা কি মুছে যাবে?
খালিদ কিছু বলল না।
রাশেদ বলল,
—গত মাসে দাবা প্রতিযোগিতায় ফাইনালে হেরেছিলাম। কোচ বলেছিলেন, “জয় তোমাকে পুরস্কার দেয়, আর হার তোমাকে শিক্ষা দেয়।” তারপর প্রতিপক্ষের চালগুলো বিশ্লেষণ করে নতুন কৌশল শিখেছিলাম।
শুভ বলল,
—হারলে লজ্জা নেই। একই ভুল আবার করলে লজ্জা।
আব্দুল্লাহ যোগ করল,
—আমি ছোটবেলায় দৌড়ে প্রায়ই শেষ হতাম। প্রতিবার হেরেই নিজের ভুল খুঁজেছি। আজ আমি স্কুলের সেরা রানারদের একজন।
শিহাব হেসে বলল,
—প্রথম ম্যাচে ক্যাচ ফেলেছিলাম। সবাই হেসেছিল। সেদিনই শিখেছিলাম—ভুলের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, পরের ক্যাচটা ধরার প্রস্তুতি নিতে হবে।
সেই রাতে খালিদের ঘুম হলো না। সে ভাবল, <span;>জিতলে সে শুধু উদযাপন করেছে; হারলেই প্রথমবার নিজের ভুলগুলো দেখতে পেয়েছে।
পরদিন সে বন্ধুদের ডেকে বলল,
—কাল আমি ভুল করেছি। হারকে অপমান ভেবেছিলাম। আজ থেকে এটাকে শিক্ষা হিসেবে নেব।
পাঁচ বন্ধু মিলে পুরো ম্যাচের ভিডিও দেখল। কোথায় ভুল হয়েছে, কোন সিদ্ধান্ত বদলানো যেত—সব লিখে ফেলল। শুরু হলো নতুন অনুশীলন।
এক মাস পর আবার ফাইনাল। প্রতিপক্ষ সেই সেন্ট মেরিজ।
এবার খালিদ প্রথম ওভারেই আউট হলো। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় হাসল।
—ওদের বোলার দারুণ করেছে। এবার ওকে কীভাবে খেলতে হবে, সেটা শিখলাম।

শেষ ওভারে আবারও দরকার বারো রান। শেষ বলে ছক্কা মেরে শুভ দলকে জিতিয়ে দিল।
খালিদ দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।
ট্রফি হাতে নিয়ে সে বলল,
—আজকের জয়টা আসলে আজ শুরু হয়নি। শুরু হয়েছিল যেদিন আমরা তিন রানে হেরেছিলাম।
প্রধান শিক্ষক মঞ্চে উঠে বললেন,
—তোমরা শুধু একটি ম্যাচ জেতোনি; তোমরা শিখেছ কীভাবে হারকে শক্তিতে পরিণত করতে হয়।
সেদিন থেকে পাঁচ বন্ধু জুনিয়রদের একটি কথাই শেখায়—
“হার মানে পথের শেষ নয়; কখনো কখনো হারই নতুন জয়ের প্রথম পাঠ।”