বাংলাদেশ 3:08 pm, Friday, 23 October 2026
[gtranslate]

‘শিক্ষিত বেকার কমাতে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা অর্জনের ঘাটতির কারণেই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করা জরুরি। মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

তারেক রহমান বলেন, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব হ্রাস সম্ভব নয়। তাই সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কারিকুলাম সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে তা যুগোপযোগী ও দক্ষতা-ভিত্তিক হয়।

তিনি আরও জানান, উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ জোরদার করার উদ্যোগ চলছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস জীবন থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে বলে মন্তব্য করেন।

স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বিগ ডাটা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, একই সঙ্গে পুরনো কিছু চাকরির ক্ষেত্র সংকুচিত করছে।

বৈশ্বিক উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অবকাঠামো ছাড়াই শুধুমাত্র উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রভাব তৈরি করেছে। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে, যেখানে যোগ্যতা ও সৃজনশীলতাই হবে মূল ভিত্তি।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি দেশীয় ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

জল, বন আর মানুষের গান: সাতক্ষীরার জীবনকথা

‘শিক্ষিত বেকার কমাতে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে’

প্রকাশ 06:07:14 am, Tuesday, 12 May 2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা অর্জনের ঘাটতির কারণেই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করা জরুরি। মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

তারেক রহমান বলেন, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব হ্রাস সম্ভব নয়। তাই সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কারিকুলাম সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে তা যুগোপযোগী ও দক্ষতা-ভিত্তিক হয়।

তিনি আরও জানান, উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ জোরদার করার উদ্যোগ চলছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস জীবন থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে বলে মন্তব্য করেন।

স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বিগ ডাটা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, একই সঙ্গে পুরনো কিছু চাকরির ক্ষেত্র সংকুচিত করছে।

বৈশ্বিক উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অবকাঠামো ছাড়াই শুধুমাত্র উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রভাব তৈরি করেছে। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে, যেখানে যোগ্যতা ও সৃজনশীলতাই হবে মূল ভিত্তি।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি দেশীয় ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।