Dhaka বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দেশি পশুর বাজারে সম্ভাবনা

সাতক্ষীরায় চাহিদার তুলনায় বেশি থাকবে ১৮ হাজার কোরবানীর পশু

আব্দুর রহমান
  • প্রকাশের সময় ০৪:১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ৩৭ বার দেখা হয়েছে

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর সরবরাহ এবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর। তবে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় অনেক খামারির মধ্যে লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খামারিরা জানান, গমের ভূষি, ভুট্টা, সয়াবিন খৈলসহ পশুখাদ্যের দাম বাড়লেও কোরবানির বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এতে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
তালা উপজেলার খামারি শামীম সরদার জানান, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লাভের পরিমাণ কমে আসতে পারে। তবে ভারতের সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দেশি পশুর বাজার ভালো থাকার সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ।
পাটকেলঘাটার খামারি প্রভাষ ঘোষ জানান, তার খামারে বড় আকারের দুটি গরু রয়েছে, যেগুলোর দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারে চাহিদা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন।
অন্যদিকে বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ বলেন, মাত্র ছয় মাস আগে খামার শুরু করলেও বর্তমানে তার ১০টি গরু রয়েছে। দেশি ঘাস ও প্রাকৃতিক খাদ্যে পশু লালন করায় তিনি কিছুটা আশাবাদী। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর বলেন, “চাহিদার তুলনায় এবছর প্রায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এতে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ বন্ধে কঠোর নজরদারি রয়েছে।” তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে। ফলে দেশীয় খামারিরা ভালো বাজার পাওয়ার আশা করছেন।
তবে খামারি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে ক্রেতা কম থাকায় অনেকেই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। দেশি পশুর উৎপাদন বাড়ায় এখন কোরবানির বাজারে বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে এসেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দেশি পশুর বাজারে সম্ভাবনা

সাতক্ষীরায় চাহিদার তুলনায় বেশি থাকবে ১৮ হাজার কোরবানীর পশু

প্রকাশের সময় ০৪:১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর সরবরাহ এবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর। তবে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় অনেক খামারির মধ্যে লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খামারিরা জানান, গমের ভূষি, ভুট্টা, সয়াবিন খৈলসহ পশুখাদ্যের দাম বাড়লেও কোরবানির বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এতে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
তালা উপজেলার খামারি শামীম সরদার জানান, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লাভের পরিমাণ কমে আসতে পারে। তবে ভারতের সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দেশি পশুর বাজার ভালো থাকার সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ।
পাটকেলঘাটার খামারি প্রভাষ ঘোষ জানান, তার খামারে বড় আকারের দুটি গরু রয়েছে, যেগুলোর দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারে চাহিদা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন।
অন্যদিকে বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ বলেন, মাত্র ছয় মাস আগে খামার শুরু করলেও বর্তমানে তার ১০টি গরু রয়েছে। দেশি ঘাস ও প্রাকৃতিক খাদ্যে পশু লালন করায় তিনি কিছুটা আশাবাদী। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর বলেন, “চাহিদার তুলনায় এবছর প্রায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এতে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ বন্ধে কঠোর নজরদারি রয়েছে।” তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে। ফলে দেশীয় খামারিরা ভালো বাজার পাওয়ার আশা করছেন।
তবে খামারি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে ক্রেতা কম থাকায় অনেকেই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। দেশি পশুর উৎপাদন বাড়ায় এখন কোরবানির বাজারে বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে এসেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক।