Dhaka বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে কোরবানির হাটে প্রস্তুত ‘নেইমার’

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৯:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ২৬ বার দেখা হয়েছে

আসন্ন ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের বিভিন্ন খামারে চলছে কোরবানির পশুর পরিচর্যার ব্যস্ততা। এর মধ্যেই অভয়নগর উপজেলার দুটি পারিবারিক খামারের বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটির নাম ‘নেইমার’, অন্যটির নাম ‘ঠাণ্ডা ভোলা’। উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ভাঙা মশিয়াহাটি গ্রামের খামারি দেবু পাড়ের খামারে লালন–পালন করা হচ্ছে ‘নেইমার’ নামের একটি বড় আকৃতির ষাঁড়। মাথার সামনের চুলের বিশেষ গঠন ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার–এর চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় শখ করে গরুটির এমন নাম রাখা হয়েছে বলে জানান খামারি।

খামারি দেবু পাড়ে বলেন, ফ্লেকভি জাতের ষাঁড়টির বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ মণ। সাড়ে তিন বছর ধরে বিশেষ যত্নে গরুটিকে লালন–পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার লাগে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে খৈল, ভুসি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস ও খুদ চালের ভাত। তিনি জানান, তাদের খামারে বড়–ছোট মিলিয়ে মোট ছয়টি গরু রয়েছে। তবে বিশাল আকৃতি ও শান্ত স্বভাবের কারণে ‘নেইমার’ সবার দৃষ্টি কাড়ছে। প্রতিদিন দূর–দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। দেবু পাড়ে আরও বলেন, এখনো কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করা হয়নি। ঈদের আগেই ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত বড় একটি গরুকে দড়ি ছাড়া নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে দেখা তাদের জন্য বিস্ময়ের বিষয়। গরুটির দেখাশোনায় খামারিকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছেন তাঁর মা ইতি। ‘নেইমার’-এর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিন খামারে ভিড় করছেন স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গরুটির ওজন ও সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জেলার আট উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক খামারি উন্নত খাদ্য ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় আকৃতির গরু প্রস্তুত করেছেন।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

যশোরে কোরবানির হাটে প্রস্তুত ‘নেইমার’

প্রকাশের সময় ০৯:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের বিভিন্ন খামারে চলছে কোরবানির পশুর পরিচর্যার ব্যস্ততা। এর মধ্যেই অভয়নগর উপজেলার দুটি পারিবারিক খামারের বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটির নাম ‘নেইমার’, অন্যটির নাম ‘ঠাণ্ডা ভোলা’। উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ভাঙা মশিয়াহাটি গ্রামের খামারি দেবু পাড়ের খামারে লালন–পালন করা হচ্ছে ‘নেইমার’ নামের একটি বড় আকৃতির ষাঁড়। মাথার সামনের চুলের বিশেষ গঠন ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার–এর চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় শখ করে গরুটির এমন নাম রাখা হয়েছে বলে জানান খামারি।

খামারি দেবু পাড়ে বলেন, ফ্লেকভি জাতের ষাঁড়টির বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ মণ। সাড়ে তিন বছর ধরে বিশেষ যত্নে গরুটিকে লালন–পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার লাগে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে খৈল, ভুসি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস ও খুদ চালের ভাত। তিনি জানান, তাদের খামারে বড়–ছোট মিলিয়ে মোট ছয়টি গরু রয়েছে। তবে বিশাল আকৃতি ও শান্ত স্বভাবের কারণে ‘নেইমার’ সবার দৃষ্টি কাড়ছে। প্রতিদিন দূর–দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। দেবু পাড়ে আরও বলেন, এখনো কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করা হয়নি। ঈদের আগেই ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত বড় একটি গরুকে দড়ি ছাড়া নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে দেখা তাদের জন্য বিস্ময়ের বিষয়। গরুটির দেখাশোনায় খামারিকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছেন তাঁর মা ইতি। ‘নেইমার’-এর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিন খামারে ভিড় করছেন স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গরুটির ওজন ও সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জেলার আট উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক খামারি উন্নত খাদ্য ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় আকৃতির গরু প্রস্তুত করেছেন।