অবকাঠামো সংকটে জমছে না পারুলিয়ার পশুর হাট
- প্রকাশের সময় ০৪:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ৩০ বার দেখা হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমজমাট হওয়ার কথা থাকলেও সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পারুলিয়া পশুর হাট-এ এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। পর্যাপ্ত ক্রেতা ও বড় আকারের গরুর উপস্থিতি কমে যাওয়ায় হাটটি প্রত্যাশিতভাবে জমে উঠতে পারেনি। স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, হাটে পর্যাপ্ত সেড বা ছায়াযুক্ত স্থান না থাকায় তীব্র রোদে গরু নিয়ে বসে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘক্ষণ রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা, পশুর অসুস্থ হয়ে পড়া এবং শারীরিক দুর্ভোগের কারণে অনেক খামারি এবার হাটে গরু আনতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।
রবিবার (১৭ মে) হাট ঘুরে দেখা যায়, বড় গরুর সংখ্যা খুবই সীমিত। ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হলেও ক্রেতার চাপ তেমন ছিল না। এবছর মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় অংশই ছোট ও মাঝারি গরুর দিকে ঝুঁকছেন। হাটে গরুর দাম ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। পাশাপাশি বড় সাইজের খাসি ছাগল ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং মাঝারি খাসি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খামারিদের অভিযোগ, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সারা বছর পশু পালন ব্যয় বেড়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে পশু বিক্রি করছেন বা হাটে না এনে বাড়ি থেকেই বিক্রির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
আরেকদিকে খামারিরা জানান, হাটের ছায়াযুক্ত গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো এলাকা রোদে পুড়ে যায়। এতে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং বড় গরু হাটে আনার ঝুঁকি বাড়ছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই কোরবানির জন্য ছোট বা মাঝারি পশুর দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বড় গরুর বিক্রি তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে। হাট কর্তৃপক্ষের মতে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের জাল টাকা বা প্রতারণা ঠেকাতে প্রশাসন নজরদারি জোরদার করেছে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা জানান, হাটে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে এবং প্রতারণা ঠেকাতে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, হাট টি উচ্চমূল্য ইজারা নির্ধারণ হওয়ায় বিগত কয়েক বছর সরকারি ইজারা না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকে খাস কালেকশন করা হচ্ছে। তবে সচেতন মহল বলছেন যেহেতু হাটের এই খোলাস্থানে স্থানীয় যুবরা খেলাধুলা করে থাকে। তাই স্থায়ী না হলেও হাটের দিনগুলোতে অস্থায়ী সেড বা বিকল্প ব্যবস্থা করা গেলে আবারও ক্রেতা বিক্রেতাদের পদাচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠবে পারুলিয়া গরুরহাট।




















