আম্পানের ক্ষত শুকায়নি সাতক্ষীরার উপকূলে
- প্রকাশের সময় ০৪:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ৩০ বার দেখা হয়েছে
ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সুপার সাইক্লোন আম্পানের ক্ষত এখনো শুকায়নি সাতক্ষীরার উপকূলজুড়ে। আর্থিক ক্ষতির ভার বয়ে চলা এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। নদীতে জোয়ার উঠলেই এখনো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপকূলীয় জনপদে।
২০২০ সালের ২০ মে আঘাত হানা সুপার সাইক্লোন আম্পান সাতক্ষীরার উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছিল ১৫১ কিলোমিটার গতিবেগে। টানা প্রায় ১৫ ঘণ্টা স্থায়ী ওই ঝড়ে সৃষ্টি হয় প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। প্রাথমিক হিসাবেই জেলায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১০০ কোটি টাকা।
স্থানীয়রা জানান, নিয়মিত জোয়ার–ভাটার চাপে এখনো বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। মে মাস থেকে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড় মৌসুম সামনে রেখে নতুন করে ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ছে উপকূলজুড়ে। অতীতে সিডর, আইলা, আম্পান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই অঞ্চল—ভেঙেছে বাঁধ, ডুবেছে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘের।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শ্যামনগরসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরকার বলেন, “১৭০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৪ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার-১৫ পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রায় ১০২০ দশমিক ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে ২৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, পাঁচটি রেগুলেটর প্রতিস্থাপন এবং নয়টি ইনলেট নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটির অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশ।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট আব্দুস সুবহান মুকুল বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ছয় বছর পরও উপকূলের মানুষ এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। “এখানে এখনো অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের সংকট রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক এলাকায় বিচ্ছিন্ন,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বেড়িবাঁধগুলোর অধিকাংশ স্থানে এখনো ফাটল রয়েছে। “সামান্য প্রবল জোয়ারের চাপেই যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আম্পানে সাতক্ষীরায় ১২ হাজার ৬৯৮টি মাছের ঘেরে ক্ষতি হয় ১৭৬ কোটি টাকার বেশি। কৃষিখাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩৭ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে আম, সবজি, পান ও তিল ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি হয় প্রায় ৯৫ লাখ টাকার বেশি।
ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে জেলায় ৮৩ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় ২২ হাজারের বেশি ঘর। এছাড়া ৮১ কিলোমিটার সড়ক ও ৫৬ কিলোমিটারের বেশি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।




















