বাংলাদেশ 11:55 am, Sunday, 25 October 2026
[gtranslate]

৯৯৯ নম্বরে কলের ৫৫% অপ্রয়োজনীয়

  • Reporter Name
  • প্রকাশ 10:07:54 am, Sunday, 25 October 2026
  • 128 Time View

‎বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জরুরী সেবা সহজ করতে জাতীয় জরুরী সেবা- ৯৯৯ গঠন করা হয়েছে। তবে অপ্রয়োজনীয় ও জরুরী নয় এমন কলের কারণে জরুরী সেবায় রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। ৯৯৯ নম্বরে গত প্রায় ৯ বছরে ৭ কোটি ৫১ লাখের বেশি কল এসেছে। তবে এসব কলের মধ্যে প্রকৃত জরুরি কলের সংখ্যা মাত্র ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭০টি, যা মোট কলের মাত্র ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮০৬টি কলে সেবা দেওয়া হয়েছে, যা মোট কলের ৪৪.৯৩ শতাংশ। বাকি ৫৫.০৭ শতাংশ বা ৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৫টি কল সেবা দেওয়া যায়নি বা অপ্রেয়োজনীয় কলের শ্রেণিতে রয়েছে। জরুরী সেবার দপ্তর থেকে পাওয়া ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

‎সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জরুরী সেবা-৯৯৯ এ ২৪ ঘণ্টাই সম্পূর্ণ টোল ফ্রি হওয়ায় কলারদের অনেকে অপ্রয়োজনে অথবা জরুরী নয় এমন বিষয়ে কল করেন। এমনকি মায়েরা সন্তানকে ভয় দেখানোর জন্য ফোন করে বলেন, সন্তান খেতে চাইছে না, ওষুধ দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কিংবা কান্নাকাটি করছে। আবার বিভিন্ন সময় ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তও করেন কেউ কেউ। এসব কলের কারণে জরুরি মুহূর্তে সঠিক সেবাপ্রত্যাশীদের সাড়া দিতে দেরি হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের জীবন ও সুরক্ষাকে ঝুঁকিতে পড়ছে। যদিও এসব অপ্রয়োজনীয় ও জরুরী নয় এমন কলের সংখ্যা আগের তুলনায় ধীরে ধীরে কমে আসছে।
‎
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ৯৯৯-এ আসা মোট কলের তুলনায় প্রকৃত জরুরি কলের পরিমাণ খুবই কম। আর সর্বশেষ তথ্যে প্রকৃত জরুরি কলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কল এসেছে পুলিশের জন্য। মোট ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭০টি প্রকৃত জরুরি কলের মধ্যে ২৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৬৮টি পুলিশের জন্য, যা ৮৩.৯৭ শতাংশ। ফায়ার সার্ভিসের জন্য কল এসেছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৮২টি বা ৭.৫৮ শতাংশ। আর অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল এসেছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ২০টি, যা প্রকৃত জরুরি কলের ৮.৪৫ শতাংশ।
‎
এদিকে শ্রেণিভিত্তিক কলের সংখা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপ্রয়োজনীয় কলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্ল্যাংক বা ফাঁকা কল ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৫ যা ৪৩.১৫%। পুনরাবৃত্ত কল বা একই ঘটনায় একাধিকজন কল করেন ২.০৮% যা ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৩৭। মিসড কল ৬২ লাখ ৩০ হাজার ২১০ যা ৮.২৯%। এছাড়া ক্র্যাষ্ক কল বা অপ্রেয়োজনে ফোন করে হয়রানির মতো ফোনের সংখ্যা ২৭ লাখ ১৮ হাজার ৮১০ যা ৩.৬২%।
‎
অন্যদিকে জরুরি নয় এমন অনেক কল আসে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়, নানা ধরনের সমস্যা ও অভিযোগ জানানো হয়। এমন কলের মধ্যে পুরুষের জিজ্ঞাসা ১ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৯৬০ যা ১৭.৪৯%। একইভাবে শিশুদের জিজ্ঞাসা ২০ লাখ ২৫ হাজার ৪২৪ বা ২.৬৯% আর নারীদের জিজ্ঞাসা ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৪১ বা ০.৮১%। এছাড়া বিভাগীয় কল ১ লাখ ৬১ হাজার ৬১৪ বা ০.২২%। সিএফএস আউটবাউন্ড কল নিজেদের মধ্যে ফলোআপ বা পর্যবেক্ষনের জন্য করা হয়। এর সংখ্যা ৭৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৮ যা ১০.০৪%। একইভাবে অভ্যন্তরীণ জিজ্ঞাসা ও মতামত ৫৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯২ যা ৭.৭৬ শতাংশ।
‎
জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিদর্শক) আনোয়ার সাত্তার বলেন, অনেকেই বিভিন্ন দপ্তরের বিষয়ে কল করে জানতে চান অথবা অভিযোগ জানানোর জন্য ফোন করেন। অথচ ওই সংশ্লিষ্ট দপ্তরেরই সুনির্দিষ্ট হটলাইন নম্বর রয়েছে। এমন কল জরুরী নয় তবে প্রয়োজনীয় হিসেবে সেবা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে ৫৫ শতাংশই অপ্রেয়োজনীয় ফোন আসে। যদিও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে তা কমে এসেছে। তিনি জানান, কেউ বারবার বিরক্তিকর কল করলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই নম্বর ব্লক করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

স্কুল ও মাদ্রাসার ক্লাস শুরু সোমবার

৯৯৯ নম্বরে কলের ৫৫% অপ্রয়োজনীয়

প্রকাশ 10:07:54 am, Sunday, 25 October 2026

‎বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জরুরী সেবা সহজ করতে জাতীয় জরুরী সেবা- ৯৯৯ গঠন করা হয়েছে। তবে অপ্রয়োজনীয় ও জরুরী নয় এমন কলের কারণে জরুরী সেবায় রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। ৯৯৯ নম্বরে গত প্রায় ৯ বছরে ৭ কোটি ৫১ লাখের বেশি কল এসেছে। তবে এসব কলের মধ্যে প্রকৃত জরুরি কলের সংখ্যা মাত্র ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭০টি, যা মোট কলের মাত্র ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮০৬টি কলে সেবা দেওয়া হয়েছে, যা মোট কলের ৪৪.৯৩ শতাংশ। বাকি ৫৫.০৭ শতাংশ বা ৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৫টি কল সেবা দেওয়া যায়নি বা অপ্রেয়োজনীয় কলের শ্রেণিতে রয়েছে। জরুরী সেবার দপ্তর থেকে পাওয়া ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

‎সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জরুরী সেবা-৯৯৯ এ ২৪ ঘণ্টাই সম্পূর্ণ টোল ফ্রি হওয়ায় কলারদের অনেকে অপ্রয়োজনে অথবা জরুরী নয় এমন বিষয়ে কল করেন। এমনকি মায়েরা সন্তানকে ভয় দেখানোর জন্য ফোন করে বলেন, সন্তান খেতে চাইছে না, ওষুধ দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কিংবা কান্নাকাটি করছে। আবার বিভিন্ন সময় ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তও করেন কেউ কেউ। এসব কলের কারণে জরুরি মুহূর্তে সঠিক সেবাপ্রত্যাশীদের সাড়া দিতে দেরি হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের জীবন ও সুরক্ষাকে ঝুঁকিতে পড়ছে। যদিও এসব অপ্রয়োজনীয় ও জরুরী নয় এমন কলের সংখ্যা আগের তুলনায় ধীরে ধীরে কমে আসছে।
‎
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ৯৯৯-এ আসা মোট কলের তুলনায় প্রকৃত জরুরি কলের পরিমাণ খুবই কম। আর সর্বশেষ তথ্যে প্রকৃত জরুরি কলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কল এসেছে পুলিশের জন্য। মোট ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭০টি প্রকৃত জরুরি কলের মধ্যে ২৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৬৮টি পুলিশের জন্য, যা ৮৩.৯৭ শতাংশ। ফায়ার সার্ভিসের জন্য কল এসেছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৮২টি বা ৭.৫৮ শতাংশ। আর অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল এসেছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ২০টি, যা প্রকৃত জরুরি কলের ৮.৪৫ শতাংশ।
‎
এদিকে শ্রেণিভিত্তিক কলের সংখা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপ্রয়োজনীয় কলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্ল্যাংক বা ফাঁকা কল ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৫ যা ৪৩.১৫%। পুনরাবৃত্ত কল বা একই ঘটনায় একাধিকজন কল করেন ২.০৮% যা ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৩৭। মিসড কল ৬২ লাখ ৩০ হাজার ২১০ যা ৮.২৯%। এছাড়া ক্র্যাষ্ক কল বা অপ্রেয়োজনে ফোন করে হয়রানির মতো ফোনের সংখ্যা ২৭ লাখ ১৮ হাজার ৮১০ যা ৩.৬২%।
‎
অন্যদিকে জরুরি নয় এমন অনেক কল আসে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়, নানা ধরনের সমস্যা ও অভিযোগ জানানো হয়। এমন কলের মধ্যে পুরুষের জিজ্ঞাসা ১ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৯৬০ যা ১৭.৪৯%। একইভাবে শিশুদের জিজ্ঞাসা ২০ লাখ ২৫ হাজার ৪২৪ বা ২.৬৯% আর নারীদের জিজ্ঞাসা ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৪১ বা ০.৮১%। এছাড়া বিভাগীয় কল ১ লাখ ৬১ হাজার ৬১৪ বা ০.২২%। সিএফএস আউটবাউন্ড কল নিজেদের মধ্যে ফলোআপ বা পর্যবেক্ষনের জন্য করা হয়। এর সংখ্যা ৭৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৮ যা ১০.০৪%। একইভাবে অভ্যন্তরীণ জিজ্ঞাসা ও মতামত ৫৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯২ যা ৭.৭৬ শতাংশ।
‎
জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিদর্শক) আনোয়ার সাত্তার বলেন, অনেকেই বিভিন্ন দপ্তরের বিষয়ে কল করে জানতে চান অথবা অভিযোগ জানানোর জন্য ফোন করেন। অথচ ওই সংশ্লিষ্ট দপ্তরেরই সুনির্দিষ্ট হটলাইন নম্বর রয়েছে। এমন কল জরুরী নয় তবে প্রয়োজনীয় হিসেবে সেবা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে ৫৫ শতাংশই অপ্রেয়োজনীয় ফোন আসে। যদিও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে তা কমে এসেছে। তিনি জানান, কেউ বারবার বিরক্তিকর কল করলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই নম্বর ব্লক করা হয়।