Dhaka 11:05 am, Friday, 23 October 2026
[gtranslate]

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

  • Reporter Name
  • প্রকাশ 09:17:43 pm, Wednesday, 21 October 2026
  • 109 Time View

ঢাকা: শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের উৎসবের সমাপ্তি হয়েছে। ধর্মীয় রীতি মেনে ঢাকঢোল ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। রাজধানীর ওয়াইজঘাট ও বুড়িগঙ্গার তীরে দুপুরের পর থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে ভিড় করেন ভক্তরা। বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা ঘাটে আনা হয়। পরে নৌকায় করে নদীতে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করে প্রার্থনা করেন ভক্তরা।

এবার ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, কর্ণফুলী নদী, ফিরিঙ্গিবাজার, কালুরঘাট ও সীতাকুণ্ডের সলিমপুর সৈকত এলাকায়ও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের ২৮২টি স্থানে এবং জেলার ১৫টি উপজেলায় ২ হাজার ৬২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উৎসবের শেষ দিনে সকালে মন্ত্রপাঠ, ফুল নিবেদন ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা সুস্মিতা বলেন, ‘দশমীর লগ্ন শুরু হওয়া মানেই তো মন খারাপের শুরু। মা চলে যাচ্ছেন ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে। এই ক’টি দিন মা আমাদের মাঝে ছিলেন, তাই সময়টা দারুণ আনন্দে কেটেছে। মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন এ দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করে দেশকে শান্তিময় করেন এবং সবাইকে ভালো রাখেন।’

রীতা সোমাদ্দার বলেন, ‘মায়ের বিদায়ে বুকটা ভরে উঠছে কষ্টে। কারণ, এখন আবার একটি বছর মায়ের আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

বুদ্ধদেব কুন্ডু বলেন, ‘আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাকে বিদায় জানাতে এসেছি। মা আমাদের মঙ্গলের জন্য, অসুর বধ করার জন্য ধরাধামে এসেছিলেন। আমরা মায়ের কাছে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।’

শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটেছিল ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় নৌকায় গমনকে শস্যবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। বিদায়ের বিষাদের মধ্যেও আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা। তাঁদের কণ্ঠে ছিল একটাই প্রত্যাশা—‘সামনের বছর আবার এসো মা।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

জনপ্রতিনিধিদের চারটি গুণের অধিকারী হতে হবে

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

প্রকাশ 09:17:43 pm, Wednesday, 21 October 2026

ঢাকা: শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের উৎসবের সমাপ্তি হয়েছে। ধর্মীয় রীতি মেনে ঢাকঢোল ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। রাজধানীর ওয়াইজঘাট ও বুড়িগঙ্গার তীরে দুপুরের পর থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে ভিড় করেন ভক্তরা। বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা ঘাটে আনা হয়। পরে নৌকায় করে নদীতে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করে প্রার্থনা করেন ভক্তরা।

এবার ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, কর্ণফুলী নদী, ফিরিঙ্গিবাজার, কালুরঘাট ও সীতাকুণ্ডের সলিমপুর সৈকত এলাকায়ও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের ২৮২টি স্থানে এবং জেলার ১৫টি উপজেলায় ২ হাজার ৬২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উৎসবের শেষ দিনে সকালে মন্ত্রপাঠ, ফুল নিবেদন ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা সুস্মিতা বলেন, ‘দশমীর লগ্ন শুরু হওয়া মানেই তো মন খারাপের শুরু। মা চলে যাচ্ছেন ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে। এই ক’টি দিন মা আমাদের মাঝে ছিলেন, তাই সময়টা দারুণ আনন্দে কেটেছে। মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন এ দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করে দেশকে শান্তিময় করেন এবং সবাইকে ভালো রাখেন।’

রীতা সোমাদ্দার বলেন, ‘মায়ের বিদায়ে বুকটা ভরে উঠছে কষ্টে। কারণ, এখন আবার একটি বছর মায়ের আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

বুদ্ধদেব কুন্ডু বলেন, ‘আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাকে বিদায় জানাতে এসেছি। মা আমাদের মঙ্গলের জন্য, অসুর বধ করার জন্য ধরাধামে এসেছিলেন। আমরা মায়ের কাছে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।’

শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটেছিল ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় নৌকায় গমনকে শস্যবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। বিদায়ের বিষাদের মধ্যেও আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা। তাঁদের কণ্ঠে ছিল একটাই প্রত্যাশা—‘সামনের বছর আবার এসো মা।’