বাংলাদেশ 9:32 pm, Saturday, 24 October 2026
[gtranslate]

সংস্কারহীন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, নিরাপদ পানির সংকটে হাজারো মানুষ

খোলপেটুয়া নদীর চরে সবুজে ঘেরা একটি স্থাপনা। চারপাশে নারিকেল, তালসহ নানা প্রজাতির গাছ। রয়েছে খাবার পানির বড় পুকুর, সরকারি খাল, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসা। একসময় উপকূলীয় জনপদ গাবুরার মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণ ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে নির্মিত হয়েছিল স্থাপনাটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন নদীভাঙন ও লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে পড়েছে পুরো এলাকা।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরায় অবস্থিত সরকারি এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি স্থানীয় মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। তবে এর চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাচ্ছে। খাবার পানির পুকুরের পাড়ও নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে স্থাপনাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ পানির অন্যতম উৎস হারিয়ে যেতে পারে।

২০০৩ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় গাবুরার খাবার পানির সংকট নিরসন ও সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইকোপার্কের আদলে ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে এটি দক্ষিণ উপকূলের একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণের পর গত ২৩ বছরে এখানে উল্লেখযোগ্য সরকারি সংস্কারকাজ হয়নি।

গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নত সড়ক নির্মিত হলেও নদীর চরে থাকা এ স্থাপনাটি এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জোয়ারের লবণাক্ত পানি স্থাপনার ভেতরে ঢুকে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি প্লাবিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। উপকূলীয় এ অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট এমনিতেই দীর্ঘদিনের। ফলে পুকুরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় পুরো গাবুরা প্লাবিত হয়েছিল। সে সময় এলাকার অধিকাংশ খাবার পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। এমন দুর্যোগের পর নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তবে এরপরও স্থাপনাটির প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের মতে, স্থাপনাটির চারপাশের বাঁধ মেরামত, পুকুরের পাড় পুনর্নির্মাণ, খাল সংরক্ষণ ও গাছপালা রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ আশপাশের স্থাপনাগুলোকে নদীভাঙন ও লবণাক্ত পানির ঝুঁকি থেকে রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গাবুরার এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা শুধু সৌন্দর্যের নিদর্শন নয়; স্থানীয় মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা ও পরিবেশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই এটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরদারি ও সংস্কারকাজ প্রয়োজন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

সংস্কারহীন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, নিরাপদ পানির সংকটে হাজারো মানুষ

সংস্কারহীন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, নিরাপদ পানির সংকটে হাজারো মানুষ

প্রকাশ 08:42:27 pm, Saturday, 24 October 2026

খোলপেটুয়া নদীর চরে সবুজে ঘেরা একটি স্থাপনা। চারপাশে নারিকেল, তালসহ নানা প্রজাতির গাছ। রয়েছে খাবার পানির বড় পুকুর, সরকারি খাল, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসা। একসময় উপকূলীয় জনপদ গাবুরার মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণ ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে নির্মিত হয়েছিল স্থাপনাটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন নদীভাঙন ও লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে পড়েছে পুরো এলাকা।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরায় অবস্থিত সরকারি এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি স্থানীয় মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। তবে এর চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাচ্ছে। খাবার পানির পুকুরের পাড়ও নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে স্থাপনাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ পানির অন্যতম উৎস হারিয়ে যেতে পারে।

২০০৩ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় গাবুরার খাবার পানির সংকট নিরসন ও সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইকোপার্কের আদলে ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে এটি দক্ষিণ উপকূলের একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণের পর গত ২৩ বছরে এখানে উল্লেখযোগ্য সরকারি সংস্কারকাজ হয়নি।

গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নত সড়ক নির্মিত হলেও নদীর চরে থাকা এ স্থাপনাটি এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জোয়ারের লবণাক্ত পানি স্থাপনার ভেতরে ঢুকে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি প্লাবিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। উপকূলীয় এ অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট এমনিতেই দীর্ঘদিনের। ফলে পুকুরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় পুরো গাবুরা প্লাবিত হয়েছিল। সে সময় এলাকার অধিকাংশ খাবার পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। এমন দুর্যোগের পর নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তবে এরপরও স্থাপনাটির প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের মতে, স্থাপনাটির চারপাশের বাঁধ মেরামত, পুকুরের পাড় পুনর্নির্মাণ, খাল সংরক্ষণ ও গাছপালা রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ আশপাশের স্থাপনাগুলোকে নদীভাঙন ও লবণাক্ত পানির ঝুঁকি থেকে রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গাবুরার এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা শুধু সৌন্দর্যের নিদর্শন নয়; স্থানীয় মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা ও পরিবেশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই এটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরদারি ও সংস্কারকাজ প্রয়োজন।