সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারে একটি ছোট ভিডিও ক্লিপই কখনও কখনও পুরো বাস্তবতাকে বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে Facebook, YouTube ও TikTok-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ‘রিলস’ বা শর্ট ভিডিওর জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আংশিক বা সম্পাদিত ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতাও বাড়ছে।
একটি ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট উপস্থাপন না করে কেবল উত্তেজনাকর বা আবেগঘন অংশ তুলে ধরলে দর্শকের মনে ভিন্ন ধারণা তৈরি হয়। অনেক সময় ভিডিওর আগে বা পরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেওয়া হয়, ফলে ঘটনাটি বাস্তবে যেমন ছিল, তা আর স্পষ্ট থাকে না।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক সেকেন্ডের অংশ কেটে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বহন করে। এর ফলে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং কখনও কখনও অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনাও ছড়াচ্ছে।
ডিজিটাল বিশ্লেষকদের মতে, ‘রিলস কালচার’-এর মূল লক্ষ্য দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণ করা। এ কারণে অনেক কনটেন্ট নির্মাতা সচেতনভাবেই এমন অংশ বেছে নেন, যা বেশি ভিউ, লাইক ও শেয়ার এনে দেয়। এতে সত্যতা ও প্রেক্ষাপট প্রায়ই উপেক্ষিত হয়।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের প্রতি মানুষের সহজাত বিশ্বাস। একটি ভিডিও দেখেই অনেকেই যাচাই না করে সেটিকে সত্য ধরে নেন। অথচ একই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ভিডিও বা ভিন্ন কোণ থেকে ধারণ করা ফুটেজ দেখলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে আসতে পারে।
এভাবে বিকৃত তথ্য ছড়ানো শুধু ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্নই করে না, বরং সামাজিক অস্থিরতাও বাড়াতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর ভিডিও গুজব, জনরোষ এমনকি সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিজিটাল যুগে তথ্যের গতি যেমন দ্রুত, তেমনি বিভ্রান্তির ঝুঁকিও বেশি। তাই সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য পরামর্শ— কোনো ভিডিও দেখেই বিশ্বাস না করে উৎস যাচাই করা, পূর্ণাঙ্গ ভিডিও খোঁজা এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। একই সঙ্গে কনটেন্ট নির্মাতাদেরও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।