বাংলাদেশ 3:59 am, Monday, 26 October 2026
[gtranslate]

কালের সাক্ষী প্রায় দু’শো বছরের প্রাচীন ছয় গম্বুজ মসজিদ

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চেঁড়াঘাট গ্রামের নৌ-খালের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে উপমহাদেশীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন—চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কায়েম বিশ্বাসের মসজিদ’ নামেও পরিচিত। প্রায় পৌনে দুইশ বছর পুরোনো এই স্থাপনা আজও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে দমদম এলাকার সবুজ-ছায়াঘেরা পরিবেশে অবস্থিত এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা ১২৬৯ সন, অর্থাৎ ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে। নামফলকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬৪ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদটি এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

ইট ও চুন-সুরকির সূক্ষ্ম গাঁথুনিতে নির্মিত মসজিদটির আয়তন প্রায় ১২ শতক জমির ওপর বিস্তৃত। এতে রয়েছে ৭টি দরজা, ১০টি পিলার, ৬টি গম্বুজ ও ১০টি মিনার। প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার এই মসজিদে একসঙ্গে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাতা কায়েম বিশ্বাস ছিলেন একজন প্রভাবশালী গাঁতিদার। এক সময় মুর্শিদাবাদের জমিদার দুর্গাপদ চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন। পরবর্তীতে কৌশলে ক্ষমা প্রার্থনা করলে জমিদার তাকে একটি মসজিদ নির্মাণের শর্ত দেন। সেই শর্ত পূরণ করতেই কায়েম বিশ্বাস কলকাতা থেকে শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রী এনে নিজ গ্রাম চেঁড়াঘাটে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আবু নসর রচিত ‘কলারোয়া উপজেলার ইতিহাস’ গ্রন্থেও এই মসজিদের নির্মাণ ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমানে মসজিদটি সম্প্রতি সম্প্রসারণ ও সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। নতুন সিঁড়ি নির্মাণ করে মূল স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সংরক্ষণে সহায়ক হবে।

স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দারা জানান, মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। নিজেদের সীমিত অর্থায়নে তারা যতটুকু সম্ভব সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে টেকসই সংরক্ষণের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলে এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং কলারোয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

একাকীত্বের  সৌন্দর্য‌‌‌‌‌‌‌‌

কালের সাক্ষী প্রায় দু’শো বছরের প্রাচীন ছয় গম্বুজ মসজিদ

প্রকাশ 12:29:05 pm, Friday, 24 April 2026

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চেঁড়াঘাট গ্রামের নৌ-খালের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে উপমহাদেশীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন—চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কায়েম বিশ্বাসের মসজিদ’ নামেও পরিচিত। প্রায় পৌনে দুইশ বছর পুরোনো এই স্থাপনা আজও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে দমদম এলাকার সবুজ-ছায়াঘেরা পরিবেশে অবস্থিত এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা ১২৬৯ সন, অর্থাৎ ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে। নামফলকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬৪ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদটি এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

ইট ও চুন-সুরকির সূক্ষ্ম গাঁথুনিতে নির্মিত মসজিদটির আয়তন প্রায় ১২ শতক জমির ওপর বিস্তৃত। এতে রয়েছে ৭টি দরজা, ১০টি পিলার, ৬টি গম্বুজ ও ১০টি মিনার। প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার এই মসজিদে একসঙ্গে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাতা কায়েম বিশ্বাস ছিলেন একজন প্রভাবশালী গাঁতিদার। এক সময় মুর্শিদাবাদের জমিদার দুর্গাপদ চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন। পরবর্তীতে কৌশলে ক্ষমা প্রার্থনা করলে জমিদার তাকে একটি মসজিদ নির্মাণের শর্ত দেন। সেই শর্ত পূরণ করতেই কায়েম বিশ্বাস কলকাতা থেকে শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রী এনে নিজ গ্রাম চেঁড়াঘাটে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আবু নসর রচিত ‘কলারোয়া উপজেলার ইতিহাস’ গ্রন্থেও এই মসজিদের নির্মাণ ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমানে মসজিদটি সম্প্রতি সম্প্রসারণ ও সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। নতুন সিঁড়ি নির্মাণ করে মূল স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সংরক্ষণে সহায়ক হবে।

স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দারা জানান, মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। নিজেদের সীমিত অর্থায়নে তারা যতটুকু সম্ভব সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে টেকসই সংরক্ষণের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলে এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং কলারোয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি।