Dhaka সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর চিত্র জানা গেল

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ১০:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৪ বার দেখা হয়েছে

দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে পুরুষ ব্যবহারকারী ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটরিয়ামে ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’ শীর্ষক জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের ডিজিটাল ব্যবহারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়। জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিস্তার ঘটলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় এখনও ঘাটতি রয়েছে। দেশে ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনও সীমিত—মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। পরিবারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অঞ্চলভেদে প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় পার্থক্য রয়েছে। ঢাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সবচেয়ে বেশি হলেও পঞ্চগড়ে তা সর্বনিম্ন। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারে ঢাকার পরিবার এগিয়ে থাকলেও ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্যের মধ্যে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। এছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলা বিষয়ক তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলক কম—মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এ সেবা নিয়েছেন। ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট করার মতো মৌলিক কাজেই বেশি দক্ষতা লক্ষ্য করা গেছে, যা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে রয়েছে। তবে উন্নত দক্ষতায় এখনও ঘাটতি রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতায় কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের শিকার হলে তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকিও কম নয়—৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর মতে, ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে বড় হুমকি ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার। এদিকে, উচ্চমূল্য ইন্টারনেট ব্যবহারের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জরিপে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, বেশি খরচের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোই এখন সময়ের দাবি।

আরো পড়ুন: কীসের পেছনে ছুটছে তরুণেরা?

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর চিত্র জানা গেল

প্রকাশের সময় ১০:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে পুরুষ ব্যবহারকারী ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটরিয়ামে ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’ শীর্ষক জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের ডিজিটাল ব্যবহারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়। জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিস্তার ঘটলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় এখনও ঘাটতি রয়েছে। দেশে ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনও সীমিত—মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। পরিবারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অঞ্চলভেদে প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় পার্থক্য রয়েছে। ঢাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সবচেয়ে বেশি হলেও পঞ্চগড়ে তা সর্বনিম্ন। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারে ঢাকার পরিবার এগিয়ে থাকলেও ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্যের মধ্যে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। এছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলা বিষয়ক তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলক কম—মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এ সেবা নিয়েছেন। ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট করার মতো মৌলিক কাজেই বেশি দক্ষতা লক্ষ্য করা গেছে, যা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে রয়েছে। তবে উন্নত দক্ষতায় এখনও ঘাটতি রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতায় কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের শিকার হলে তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকিও কম নয়—৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর মতে, ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে বড় হুমকি ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার। এদিকে, উচ্চমূল্য ইন্টারনেট ব্যবহারের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জরিপে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, বেশি খরচের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোই এখন সময়ের দাবি।

আরো পড়ুন: কীসের পেছনে ছুটছে তরুণেরা?