Dhaka শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সজনে গাছেই মিলতে পারে পানিদূষণের সমাধান

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৯:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / ৪১ বার দেখা হয়েছে

সজনে গাছে দূর হবে ৯৮% পানিদূষণ: গবেষণা

পানির ভেতরে অদৃশ্য দূষক হিসেবে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন বিশ্বজুড়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। নদী-সমুদ্র থেকে শুরু করে কলের পানিতেও মিলছে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আশার আলো দেখাচ্ছে একটি পরিচিত প্রাকৃতিক গাছ—সজনে। ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষকের দাবি, সজনে গাছ (মরিঙ্গা)–এর বীজ ব্যবহার করে পানির প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণ করা সম্ভব। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এই গবেষণাটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেন ব্রাজিলের সাও পাওলো স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আদ্রিয়ানো গনসালভেস দস রেইস এবং তার দল। তারা প্রায় এক দশক ধরে সজনে বীজের পানি পরিশোধন ক্ষমতা নিয়ে কাজ করছেন। গবেষকদের মতে, সজনে বীজে থাকা প্রাকৃতিক প্রোটিনজাত উপাদান পানির ভেতরের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে একত্র করে বড় কণায় রূপান্তর করে। ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক সহজেই পৃথক করা সম্ভব হয়। পরীক্ষায় বিশেষভাবে ক্ষতিকর পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, যা পানিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এতে দেখা গেছে, সজনে বীজের নির্যাস ব্যবহার করে এই কণার প্রায় সম্পূর্ণ অংশই অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে সজনে বীজ প্রচলিত রাসায়নিক পরিশোধন পদ্ধতির সমতুল্য, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও কার্যকর। বিশেষ করে পানির ক্ষারীয় অবস্থায় এর কার্যকারিতা বেশি দেখা গেছে। তবে এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একটি সজনে বীজ দিয়ে আনুমানিক ১০ লিটার পানি বিশুদ্ধ করা সম্ভব হওয়ায় বড় শহরের বিশাল পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রয়োগ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকা, ছোট কমিউনিটি বা সীমিত সম্পদের অঞ্চলে এটি হতে পারে একটি কার্যকর, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান। কারণ সজনে বীজ সহজলভ্য, জৈবভাবে পচনশীল এবং কোনো ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি করে না।

গবেষণায় সরাসরি যুক্ত না থাকা যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, সজনে গাছের এই ব্যবহার ভবিষ্যতে কম খরচে টেকসই পানি পরিশোধনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অন্যান্য ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক ও অতিসূক্ষ্ম কণার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত সজনে গাছ এখন বিশুদ্ধ পানির সম্ভাবনাময় সমাধান হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র: CNN

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

সজনে গাছেই মিলতে পারে পানিদূষণের সমাধান

প্রকাশের সময় ০৯:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

পানির ভেতরে অদৃশ্য দূষক হিসেবে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন বিশ্বজুড়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। নদী-সমুদ্র থেকে শুরু করে কলের পানিতেও মিলছে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আশার আলো দেখাচ্ছে একটি পরিচিত প্রাকৃতিক গাছ—সজনে। ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষকের দাবি, সজনে গাছ (মরিঙ্গা)–এর বীজ ব্যবহার করে পানির প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণ করা সম্ভব। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এই গবেষণাটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেন ব্রাজিলের সাও পাওলো স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আদ্রিয়ানো গনসালভেস দস রেইস এবং তার দল। তারা প্রায় এক দশক ধরে সজনে বীজের পানি পরিশোধন ক্ষমতা নিয়ে কাজ করছেন। গবেষকদের মতে, সজনে বীজে থাকা প্রাকৃতিক প্রোটিনজাত উপাদান পানির ভেতরের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে একত্র করে বড় কণায় রূপান্তর করে। ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক সহজেই পৃথক করা সম্ভব হয়। পরীক্ষায় বিশেষভাবে ক্ষতিকর পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, যা পানিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এতে দেখা গেছে, সজনে বীজের নির্যাস ব্যবহার করে এই কণার প্রায় সম্পূর্ণ অংশই অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে সজনে বীজ প্রচলিত রাসায়নিক পরিশোধন পদ্ধতির সমতুল্য, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও কার্যকর। বিশেষ করে পানির ক্ষারীয় অবস্থায় এর কার্যকারিতা বেশি দেখা গেছে। তবে এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একটি সজনে বীজ দিয়ে আনুমানিক ১০ লিটার পানি বিশুদ্ধ করা সম্ভব হওয়ায় বড় শহরের বিশাল পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রয়োগ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকা, ছোট কমিউনিটি বা সীমিত সম্পদের অঞ্চলে এটি হতে পারে একটি কার্যকর, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান। কারণ সজনে বীজ সহজলভ্য, জৈবভাবে পচনশীল এবং কোনো ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি করে না।

গবেষণায় সরাসরি যুক্ত না থাকা যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, সজনে গাছের এই ব্যবহার ভবিষ্যতে কম খরচে টেকসই পানি পরিশোধনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অন্যান্য ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক ও অতিসূক্ষ্ম কণার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত সজনে গাছ এখন বিশুদ্ধ পানির সম্ভাবনাময় সমাধান হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র: CNN