বাংলাদেশ 8:09 am, Sunday, 25 October 2026
[gtranslate]

জাল স্বাক্ষরে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার লাপাত্তা

  • Reporter Name
  • প্রকাশ 08:46:03 am, Tuesday, 12 May 2026
  • 200 Time View

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ডিসিপ্লিনের সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানের বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক্সিকিউটিভ এমবিএ (ইএমবিএ) প্রোগ্রামের সেমিস্টার ফি, পরীক্ষার ফি এবং অন্যান্য খাতের অর্থ মিলিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ পায় গত সোমবার (১১ মে), যখন শিক্ষার্থীরা তাদের সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি দেখতে পান।

এ বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নূর আলম জানান, “সহকারী রেজিস্ট্রার আমার এবং কোর্স কো-অর্ডিনেটরের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। এরপর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই কর্মকর্তার মাধ্যমেই সেমিস্টার ফি জমা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু পরে রেজিস্ট্রেশন যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ফি জমা হয়নি এবং কোর্স সম্পন্নও দেখাচ্ছে না।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা নিয়মিত তার মাধ্যমেই টাকা দিতাম। তিনি এমনভাবে আত্মসাৎ করবেন, তা আমরা কল্পনাও করিনি।”

কোর্স কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর এস এম জাহিদুর রহমান বলেন, “আমাদের স্বাক্ষর জাল করে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।” অভিযোগ প্রকাশের পর থেকেই সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানকে আর কর্মস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

মাদকের সর্বগ্রাসী বিস্তার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই

জাল স্বাক্ষরে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার লাপাত্তা

প্রকাশ 08:46:03 am, Tuesday, 12 May 2026

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ডিসিপ্লিনের সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানের বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক্সিকিউটিভ এমবিএ (ইএমবিএ) প্রোগ্রামের সেমিস্টার ফি, পরীক্ষার ফি এবং অন্যান্য খাতের অর্থ মিলিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ পায় গত সোমবার (১১ মে), যখন শিক্ষার্থীরা তাদের সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি দেখতে পান।

এ বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নূর আলম জানান, “সহকারী রেজিস্ট্রার আমার এবং কোর্স কো-অর্ডিনেটরের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। এরপর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই কর্মকর্তার মাধ্যমেই সেমিস্টার ফি জমা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু পরে রেজিস্ট্রেশন যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ফি জমা হয়নি এবং কোর্স সম্পন্নও দেখাচ্ছে না।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা নিয়মিত তার মাধ্যমেই টাকা দিতাম। তিনি এমনভাবে আত্মসাৎ করবেন, তা আমরা কল্পনাও করিনি।”

কোর্স কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর এস এম জাহিদুর রহমান বলেন, “আমাদের স্বাক্ষর জাল করে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।” অভিযোগ প্রকাশের পর থেকেই সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানকে আর কর্মস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।