Dhaka বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ৬ বছর: উপকূলের ‘মে’ এখনো আতঙ্কের নাম

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৫:০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / ২৭ বার দেখা হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় আম্পান

উপকূলের মানুষের কাছে মে মাস মানেই আতঙ্ক। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ছয় বছর পরও সেই ভয় কাটেনি সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রার মানুষের। প্রতি বছরই এ সময় এলেই ঘূর্ণিঝড়, নিম্নচাপ ও জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় দিন কাটে তাদের। ২০০৯ সালের আইলা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের রেমাল—প্রায় প্রতি মে মাসেই কোনো না কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে উপকূলে। এর মধ্যে ২০২০ সালের আম্পান ছিল অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। এসব অভিজ্ঞতা এখনো উপকূলবাসীর মনে গভীর ক্ষত হয়ে আছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মে মাসেও উপকূলীয় অঞ্চলে একাধিক নিম্নচাপ, বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পুরোনো দুর্যোগ স্মৃতি আবারও নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে স্থানীয়দের মধ্যে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে মে মাসেই একাধিক বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে—আইলা (২০০৯), মোরা (২০১৭), ফণী (২০১৯), আম্পান (২০২০), ইয়াস (২০২১), অশনি ও সিত্রাং (২০২২), মোচা (২০২৩) এবং সর্বশেষ রেমাল (২০২৪)।

সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ বারবার ভেঙে প্লাবনের সৃষ্টি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো মেরামত না হওয়ায় দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, আশ্বাস থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। শ্যামনগরের গাবুরা ও আশাশুনির প্রতাপনগর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বারবার এসব এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “মে মাস এলেই আতঙ্ক শুরু হয়। আগের ঝড়ে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। আবারও একই ভয় কাজ করছে।” সরকারি উদ্যোগে গাবুরা এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২৩ কোটি টাকার টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্প চলমান থাকলেও উপকূলবাসীর মতে, কাজের গতি ও মান নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সংকট উপকূলের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী এলাকায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আম্পানের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলবাসীর জীবন থেকে ‘মে আতঙ্ক’ দূর হয়নি। বরং প্রতিটি দুর্যোগ নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—টেকসই সমাধান ছাড়া এই ভয় কাটবে না।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ৬ বছর: উপকূলের ‘মে’ এখনো আতঙ্কের নাম

প্রকাশের সময় ০৫:০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

উপকূলের মানুষের কাছে মে মাস মানেই আতঙ্ক। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ছয় বছর পরও সেই ভয় কাটেনি সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রার মানুষের। প্রতি বছরই এ সময় এলেই ঘূর্ণিঝড়, নিম্নচাপ ও জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় দিন কাটে তাদের। ২০০৯ সালের আইলা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের রেমাল—প্রায় প্রতি মে মাসেই কোনো না কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে উপকূলে। এর মধ্যে ২০২০ সালের আম্পান ছিল অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। এসব অভিজ্ঞতা এখনো উপকূলবাসীর মনে গভীর ক্ষত হয়ে আছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মে মাসেও উপকূলীয় অঞ্চলে একাধিক নিম্নচাপ, বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পুরোনো দুর্যোগ স্মৃতি আবারও নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে স্থানীয়দের মধ্যে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে মে মাসেই একাধিক বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে—আইলা (২০০৯), মোরা (২০১৭), ফণী (২০১৯), আম্পান (২০২০), ইয়াস (২০২১), অশনি ও সিত্রাং (২০২২), মোচা (২০২৩) এবং সর্বশেষ রেমাল (২০২৪)।

সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ বারবার ভেঙে প্লাবনের সৃষ্টি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো মেরামত না হওয়ায় দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, আশ্বাস থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। শ্যামনগরের গাবুরা ও আশাশুনির প্রতাপনগর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বারবার এসব এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “মে মাস এলেই আতঙ্ক শুরু হয়। আগের ঝড়ে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। আবারও একই ভয় কাজ করছে।” সরকারি উদ্যোগে গাবুরা এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২৩ কোটি টাকার টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্প চলমান থাকলেও উপকূলবাসীর মতে, কাজের গতি ও মান নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সংকট উপকূলের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী এলাকায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আম্পানের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলবাসীর জীবন থেকে ‘মে আতঙ্ক’ দূর হয়নি। বরং প্রতিটি দুর্যোগ নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—টেকসই সমাধান ছাড়া এই ভয় কাটবে না।