সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোজাম্মেল মিস্ত্রী হত্যা মামলার দুই আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে সিলেট মহানগর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের ইস্রাফিল মিস্ত্রীর ছেলে জিসান হোসেন ওরফে বিজয় বাবু ওরফে জিহান (২৪) এবং ওমর ফারুকের ছেলে আবুজার গিফারি (২২)। মামলার এজাহারে জিসানকে এক নম্বর এবং আবুজারকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে শ্যামনগরের গোপালপুর সেতুর ওপর হামলার শিকার হন মোজাম্মেল মিস্ত্রী। পূর্ববিরোধের জেরে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে তোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২২। মামলাটি পিবিআইয়ের তদন্তের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় সংস্থাটির সদর দপ্তরের নির্দেশে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট।
পিবিআই খুলনা জেলার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত দায়িত্বে সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেশমা শারমিন পিপিএম-সেবার তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল বিপিএম-সেবার দিকনির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তুহিন গাজী তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে পিবিআই সিলেট জেলা ইউনিটের সহযোগিতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে আদালতে তাঁদের বক্তব্য বা স্বীকারোক্তির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি 







































