বাংলাদেশ 4:07 pm, Friday, 23 October 2026
[gtranslate]

বিদ্যুতের ইউনিটে বাড়তে পারে ১.৫০ টাকা

  • Reporter Name
  • প্রকাশ 11:09:30 am, Tuesday, 5 May 2026
  • 145 Time View

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদন খরচে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’-এর বাড়তি চাপ। ফলে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির পরামর্শে বিদ্যুৎ বিভাগ এ প্রস্তাব সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কাছে পাঠিয়েছে।

যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব সাধারণত বিতরণ কোম্পানিগুলো কমিশনের কাছে জমা দেয়। এ বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে প্রস্তাব পেলে তা আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)সহ সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশ অনুসারেই তারা তাদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করছে এবং চলতি সপ্তাহেই তা বিইআরসিতে জমা দেওয়া হতে পারে। এরপর গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে জুনের শুরু থেকেই নতুন দর কার্যকর হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের বড় ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার আগে থেকেই অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে।

পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, তারা প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছেন এবং দ্রুতই কমিশনে জমা দেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সরকারের ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমবে। তবে এর প্রভাব পড়বে শিল্প উৎপাদনে, বাড়বে উৎপাদন ব্যয়। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচও আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক স্তর অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্বল্প ব্যবহারকারী বা ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক—যারা মাসে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন—তাদের আপাতত এই মূল্যবৃদ্ধির বাইরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। ফলে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এনসিপিতে ৬ নারী পেলেন যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব

বিদ্যুতের ইউনিটে বাড়তে পারে ১.৫০ টাকা

প্রকাশ 11:09:30 am, Tuesday, 5 May 2026

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদন খরচে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’-এর বাড়তি চাপ। ফলে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির পরামর্শে বিদ্যুৎ বিভাগ এ প্রস্তাব সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কাছে পাঠিয়েছে।

যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব সাধারণত বিতরণ কোম্পানিগুলো কমিশনের কাছে জমা দেয়। এ বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে প্রস্তাব পেলে তা আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)সহ সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশ অনুসারেই তারা তাদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করছে এবং চলতি সপ্তাহেই তা বিইআরসিতে জমা দেওয়া হতে পারে। এরপর গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে জুনের শুরু থেকেই নতুন দর কার্যকর হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের বড় ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার আগে থেকেই অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে।

পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, তারা প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছেন এবং দ্রুতই কমিশনে জমা দেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সরকারের ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমবে। তবে এর প্রভাব পড়বে শিল্প উৎপাদনে, বাড়বে উৎপাদন ব্যয়। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচও আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক স্তর অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্বল্প ব্যবহারকারী বা ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক—যারা মাসে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন—তাদের আপাতত এই মূল্যবৃদ্ধির বাইরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। ফলে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে।