১২ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আধুনিক নার্সিং সেবার অগ্রদূত Florence Nightingale-এর জন্মবার্ষিকী ও বিশ্ব নার্স দিবস। ১৮২০ সালে ইতালির এক অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারী এমন এক সময়ে রোগীর সেবাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন, যখন সমাজে এটি ছিল অবহেলিত ও নিচু মর্যাদার কাজ। তাঁর হাত ধরেই এই সেবাকর্ম পরিণত হয় সম্মানজনক ও মানবিক এক পেশায়।
গণিতবিদ থেকে মানবসেবার ব্রত
শুধু সেবিকা নন, ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল ছিলেন একজন মেধাবী গণিতবিদ ও পরিসংখ্যানবিদ। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি গণিত ও পরিসংখ্যান অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রথম নারী হিসেবে Royal Statistical Society-এর ফেলো নির্বাচিত হন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত সৈন্যদের সেবায় তাঁর অংশগ্রহণই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ হওয়ার গল্প
ক্রিমিয়ার যুদ্ধ চলাকালে হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডে অসংখ্য সৈন্য মারা যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে নাইটিংগেল তাঁর দল নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা ও সুশৃঙ্খল চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। গভীর রাতে হাতে প্রদীপ নিয়ে আহতদের খোঁজ নেওয়ার জন্য তিনি পরিচিতি পান ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ নামে। তাঁর তৈরি পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র—‘পোলার এরিয়া ডায়াগ্রাম’—স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে এবং অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করে।
সেবাকে পেশায় রূপান্তর
যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে তিনি জাতীয় নায়িকার মর্যাদা পান। প্রাপ্ত অর্থ তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার না করে লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালে আধুনিক নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁর উদ্যোগেই নার্সিং পেশা পায় একটি সুসংগঠিত কাঠামো ও মর্যাদা।
শেষ জীবন ও উত্তরাধিকার
ব্যক্তিগত জীবনে বহু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি অবিবাহিত থাকেন এবং সারাজীবন মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। ১৯০৭ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘অর্ডার অব মেরিট’ সম্মানে ভূষিত করে। ১৯১০ সালের ১৩ আগস্ট ৯০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় আড়ম্বর ছাড়াই তাঁকে অত্যন্ত সাধারণভাবে সমাহিত করা হয়।
মানবতার সেবায় নিবেদিত এই মহান নারীর জীবন আজও বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার পথপ্রদর্শক হয়ে আছে।
সুরাইয়া খাতুন 











































