বাংলাদেশ 4:54 pm, Friday, 23 October 2026
[gtranslate]

যেভাবে চালু হয় কোরবানি

ইসলামের ইতিহাসে পশু কোরবানির ধারণা নতুন নয়। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী নবী আদম (আ.) ও নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর সময় থেকেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু উৎসর্গের রীতি ছিল। তবে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ঈদুল আজহার কোরবানি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ইসলামের নবুয়তের বেশ কয়েক বছর পরে। ইসলামি গবেষকদের মতে, মক্কায় ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল একত্ববাদের দাওয়াত দেওয়া। সে সময় মক্কার আরবরা বিভিন্ন দেবদেবীর নামে পশু কোরবানি করত। তাই ইসলামের নবী সেই রীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, ইসলামের বহু বিধানই মদিনায় হিজরতের পর কার্যকর হয়। কারণ মক্কায় ইসলাম প্রচারের সময় মূল কাজ ছিল তাওহিদ প্রতিষ্ঠা, আর মদিনায় এসে ধীরে ধীরে শরিয়তের বিধান চালু করা হয়।

হিজরি দ্বিতীয় সনে রোজা ও ঈদুল ফিতরের প্রবর্তনের পাশাপাশি ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিক রূপও প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মদিনায় হিজরতের পর রাসুল (সা.) প্রথম কোরবানি করেন। তিনি দুটি শিংওয়ালা দুম্বা জবাই করেছিলেন। একটি নিজের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি উম্মতের পক্ষ থেকে উৎসর্গ করেছিলেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, মদিনায় এসে মুসলমানদের জন্য দুটি ধর্মীয় উৎসব চালু হয়—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এর একটি হজের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যা পরে কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিতি পায়।

ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, কোরবানির নির্দেশ কোরআনের সুরা কাওসার ও সুরা হজে পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, সুরা কাওসার মক্কায় নাজিল হলেও কোরবানির পূর্ণাঙ্গ রীতি বাস্তবায়ন শুরু হয় মদিনা পর্বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক সময়ে কোরবানি ছিল অনেকটাই হজকেন্দ্রিক। হজ বা ওমরাহ করতে যাওয়া মুসলমানরা কোরবানির পশু সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এসব পশুকে বলা হতো “হাদি”। পশুগুলোর শরীরে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হতো যে এগুলো আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে।

ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়ার সন্ধিও কোরবানির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ষষ্ঠ হিজরিতে রাসুল (সা.) ওমরাহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে কিছু পশু কোরবানি করেন এবং কিছু পশুকে চিহ্নিত করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দশম হিজরিতে বিদায় হজের সময় রাসুল (সা.) আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ও কোরবানি সম্পন্ন করেন। ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়, তিনি বহু উট কোরবানি করেছিলেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কোরবানির জন্য বৈধ পশু হিসেবে নির্ধারিত হয়। সময়ের সঙ্গে কোরবানি শুধু হজের অংশ না থেকে সারা বিশ্বের মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত ও ত্যাগের প্রতীক হয়ে ওঠে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮

যেভাবে চালু হয় কোরবানি

প্রকাশ 09:45:32 am, Tuesday, 26 May 2026

ইসলামের ইতিহাসে পশু কোরবানির ধারণা নতুন নয়। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী নবী আদম (আ.) ও নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর সময় থেকেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু উৎসর্গের রীতি ছিল। তবে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ঈদুল আজহার কোরবানি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ইসলামের নবুয়তের বেশ কয়েক বছর পরে। ইসলামি গবেষকদের মতে, মক্কায় ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল একত্ববাদের দাওয়াত দেওয়া। সে সময় মক্কার আরবরা বিভিন্ন দেবদেবীর নামে পশু কোরবানি করত। তাই ইসলামের নবী সেই রীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, ইসলামের বহু বিধানই মদিনায় হিজরতের পর কার্যকর হয়। কারণ মক্কায় ইসলাম প্রচারের সময় মূল কাজ ছিল তাওহিদ প্রতিষ্ঠা, আর মদিনায় এসে ধীরে ধীরে শরিয়তের বিধান চালু করা হয়।

হিজরি দ্বিতীয় সনে রোজা ও ঈদুল ফিতরের প্রবর্তনের পাশাপাশি ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিক রূপও প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মদিনায় হিজরতের পর রাসুল (সা.) প্রথম কোরবানি করেন। তিনি দুটি শিংওয়ালা দুম্বা জবাই করেছিলেন। একটি নিজের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি উম্মতের পক্ষ থেকে উৎসর্গ করেছিলেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, মদিনায় এসে মুসলমানদের জন্য দুটি ধর্মীয় উৎসব চালু হয়—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এর একটি হজের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যা পরে কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিতি পায়।

ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, কোরবানির নির্দেশ কোরআনের সুরা কাওসার ও সুরা হজে পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, সুরা কাওসার মক্কায় নাজিল হলেও কোরবানির পূর্ণাঙ্গ রীতি বাস্তবায়ন শুরু হয় মদিনা পর্বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক সময়ে কোরবানি ছিল অনেকটাই হজকেন্দ্রিক। হজ বা ওমরাহ করতে যাওয়া মুসলমানরা কোরবানির পশু সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এসব পশুকে বলা হতো “হাদি”। পশুগুলোর শরীরে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হতো যে এগুলো আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে।

ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়ার সন্ধিও কোরবানির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ষষ্ঠ হিজরিতে রাসুল (সা.) ওমরাহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে কিছু পশু কোরবানি করেন এবং কিছু পশুকে চিহ্নিত করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দশম হিজরিতে বিদায় হজের সময় রাসুল (সা.) আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ও কোরবানি সম্পন্ন করেন। ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়, তিনি বহু উট কোরবানি করেছিলেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কোরবানির জন্য বৈধ পশু হিসেবে নির্ধারিত হয়। সময়ের সঙ্গে কোরবানি শুধু হজের অংশ না থেকে সারা বিশ্বের মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত ও ত্যাগের প্রতীক হয়ে ওঠে।