ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নতুন করে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ২৪ অক্টোবর, শনিবার, বন্ধ রাখা হয় বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত শিল্পকলা জাদুঘর ল্যুভর। একই দিন মুসে দোরসে, পিকাসো মিউজিয়ামসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ ছিল। ফলে বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’ দেখার আশায় আসা বহু পর্যটককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। আগের সপ্তাহের আন্দোলনে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
বন্ধ ছিল একাধিক দর্শনীয় স্থান:
ল্যুভরের পাশাপাশি প্যারিসের মুসে দোরসে, পিকাসো মিউজিয়াম, অরঁজেরি মিউজিয়াম, জ্যু দ্য পম এবং তুইলেরি উদ্যানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। প্যারিস অপেরার গার্নিয়ে ও বাস্তিল—দুটি ভেন্যুর কার্যক্রমও নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ ছিল। শিল্পবিষয়ক আন্তর্জাতিক আয়োজন আর্ট বাসেল প্যারিসের সপ্তাহান্তের কর্মসূচিও বাতিল করা হয়।
ল্যুভরের প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীরা শুধু জাদুঘরের ভেতরে থাকা শিল্পকর্মই নয়, এর বিখ্যাত কাচের পিরামিডও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হারান। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আগাম সতর্কতা না পেয়ে হতাশ পর্যটকেরা:
এ ঘটনায় ভ্রমণকারীদের অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন। ইতালি থেকে চার দিনের সফরে প্যারিসে যাওয়া ৩১ বছর বয়সী সেলেনা বার্তোনি এনডিটিভির প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানান, জাদুঘর বন্ধ থাকতে পারে—এমনটা তাঁরা ভাবেননি। মুসে দোরসে দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বন্ধের কারণে তাঁদের ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু পর্যটক আগের দিন বন্ধের ঘোষণা সম্পর্কে জানতে পারেননি। ফলে প্যারিসের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয় তাঁদের।
দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার:
বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়।
তবে প্যারিসের সব পর্যটনকেন্দ্র বা জনজীবন বন্ধ হয়ে যায়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
শিল্প, ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত প্যারিসে এমন পরিস্থিতি পর্যটন খাতেও প্রভাব ফেলে। তবে ল্যুভরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত ছিল নির্দিষ্ট দিনের নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ। পরবর্তী সময়ে কোথায় প্রবেশাধিকার চালু থাকবে, তা জানতে দর্শনার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সাহিত্যপাতা 













































