বাংলাদেশ 7:46 am, Saturday, 24 October 2026
[gtranslate]

সুন্দরবন থেকে ফের ৮ জেলেকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা কোনোভাবেই থামছে না। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় উপকূলীয় বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় আরও আট বনজীবীকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘নানাভাই/ডন’ ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছে। অপহৃতরা হলেন—মুন্সিগঞ্জের মীরগাঙ এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার (৪৫), আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম (৪০), একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮), শামসুর গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪২), খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।

অপহৃতদের সহযোগী ও মহাজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধ্যানোখালির চর এলাকা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়।

তাদের দাবি, প্রত্যেক বনজীবীর মুক্তির জন্য ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে।

মহাজনদের অভিযোগ, এর আগেও অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্ত করতে একই নম্বরে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগেই মৌয়ালদের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। টাকা দিলে তবেই বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এর আগে ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। পরে তাদের পরিবার ও মহাজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রায় সাত লাখ টাকা দেওয়ার পর তারা মুক্তি পান।

বনজীবী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমছে না। বরং দিন দিন বাড়ছে বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতা। তাদের ভাষ্য, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ কিছু এলাকা এখন কার্যত দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, বনজীবী অপহরণের বিষয়ে এখনো তাঁদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ

সুন্দরবন থেকে ফের ৮ জেলেকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশ 05:19:16 am, Friday, 15 May 2026

সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা কোনোভাবেই থামছে না। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় উপকূলীয় বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় আরও আট বনজীবীকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘নানাভাই/ডন’ ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছে। অপহৃতরা হলেন—মুন্সিগঞ্জের মীরগাঙ এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার (৪৫), আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম (৪০), একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮), শামসুর গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪২), খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।

অপহৃতদের সহযোগী ও মহাজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধ্যানোখালির চর এলাকা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়।

তাদের দাবি, প্রত্যেক বনজীবীর মুক্তির জন্য ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে।

মহাজনদের অভিযোগ, এর আগেও অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্ত করতে একই নম্বরে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগেই মৌয়ালদের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। টাকা দিলে তবেই বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এর আগে ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। পরে তাদের পরিবার ও মহাজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রায় সাত লাখ টাকা দেওয়ার পর তারা মুক্তি পান।

বনজীবী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমছে না। বরং দিন দিন বাড়ছে বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতা। তাদের ভাষ্য, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ কিছু এলাকা এখন কার্যত দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, বনজীবী অপহরণের বিষয়ে এখনো তাঁদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।