বাংলাদেশ 5:52 pm, Thursday, 29 October 2026
ক্ষমা চাইলেন প্রধান নির্বাহী

হংকংয়ে বহুতল ভবনে আগুনে ১৬৮ মৃত্যু

হংকংয়ে আবাসিক বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী জন লি। গত বছরের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মকে দায়ী করেছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে সরকারি বিভাগগুলোতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জন লি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে জন লি নিহতদের স্বজন ও শহরবাসীর কাছে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন হংকংয়ের আবাসনবিষয়ক সচিব উইনি হো। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। সরকার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুনের সূত্রপাত হয় জ্বলন্ত কোনো বস্তু থেকে, সম্ভবত সিগারেটের কারণে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনে থাকা কাগজজাতীয় সামগ্রীতে। ওই সময় ভবনটিতে সংস্কারকাজ চলছিল।

প্রতিবেদনে সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অগ্নিনিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আগুন প্রতিরোধে সক্ষম নয়, এমন জাল দিয়ে ভবনের চারপাশের ভারা ঢেকে রাখা এবং দীর্ঘ সময় জানালা দাহ্য ফোম বোর্ড দিয়ে বন্ধ রাখার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার প্রমাণ দেখাতে নথিপত্রে জাল তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত কমিটির মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলো অনিয়মের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলে এবং যথাযথ নজরদারি চালালে এসব ত্রুটি ও অগ্নিঝুঁকি দূর করা সম্ভব হতো। প্রতিবেদনে হংকংয়ের নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত অনিয়ম, বেআইনি কর্মকাণ্ড এবং দরপত্রে যোগসাজশের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষের জড়িত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জন লি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা তদন্ত করা হবে। আবাসন ব্যুরোর স্বাধীন পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা একটি ইউনিট পুনর্গঠন করা হবে। দরপত্রে যোগসাজশ বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। নির্মাণস্থলে ধূমপান শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইনফ্রারেড ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

হংকংয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সটি ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত। সেখানে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মানুষ বসবাস করতেন। তাঁদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। নিহতদের অনেকেই ছিলেন বয়স্ক। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযানে হাজারো অগ্নিনির্বাপণকর্মী অংশ নেন। এ সময় ৩৭ বছর বয়সী দমকলকর্মী হো ওয়াই-হো প্রাণ হারান। ঘনবসতিপূর্ণ হংকংয়ে বহু মানুষ একই ধরনের পুরোনো বহুতল ভবনে বসবাস করেন। এ অগ্নিকাণ্ড শহরজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জোরালো করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

সাংবাদিক শফিক রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ক্ষমা চাইলেন প্রধান নির্বাহী

হংকংয়ে বহুতল ভবনে আগুনে ১৬৮ মৃত্যু

প্রকাশ 04:58:05 pm, Thursday, 29 October 2026

হংকংয়ে আবাসিক বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী জন লি। গত বছরের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মকে দায়ী করেছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে সরকারি বিভাগগুলোতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জন লি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে জন লি নিহতদের স্বজন ও শহরবাসীর কাছে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন হংকংয়ের আবাসনবিষয়ক সচিব উইনি হো। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। সরকার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুনের সূত্রপাত হয় জ্বলন্ত কোনো বস্তু থেকে, সম্ভবত সিগারেটের কারণে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনে থাকা কাগজজাতীয় সামগ্রীতে। ওই সময় ভবনটিতে সংস্কারকাজ চলছিল।

প্রতিবেদনে সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অগ্নিনিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আগুন প্রতিরোধে সক্ষম নয়, এমন জাল দিয়ে ভবনের চারপাশের ভারা ঢেকে রাখা এবং দীর্ঘ সময় জানালা দাহ্য ফোম বোর্ড দিয়ে বন্ধ রাখার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার প্রমাণ দেখাতে নথিপত্রে জাল তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত কমিটির মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলো অনিয়মের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলে এবং যথাযথ নজরদারি চালালে এসব ত্রুটি ও অগ্নিঝুঁকি দূর করা সম্ভব হতো। প্রতিবেদনে হংকংয়ের নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত অনিয়ম, বেআইনি কর্মকাণ্ড এবং দরপত্রে যোগসাজশের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষের জড়িত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জন লি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা তদন্ত করা হবে। আবাসন ব্যুরোর স্বাধীন পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা একটি ইউনিট পুনর্গঠন করা হবে। দরপত্রে যোগসাজশ বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। নির্মাণস্থলে ধূমপান শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইনফ্রারেড ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

হংকংয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সটি ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত। সেখানে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মানুষ বসবাস করতেন। তাঁদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। নিহতদের অনেকেই ছিলেন বয়স্ক। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযানে হাজারো অগ্নিনির্বাপণকর্মী অংশ নেন। এ সময় ৩৭ বছর বয়সী দমকলকর্মী হো ওয়াই-হো প্রাণ হারান। ঘনবসতিপূর্ণ হংকংয়ে বহু মানুষ একই ধরনের পুরোনো বহুতল ভবনে বসবাস করেন। এ অগ্নিকাণ্ড শহরজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জোরালো করেছে।