দুটি ছবি পাশাপাশি। দুটোই একাকীত্বের ভেতর দিয়ে চলা এক নিরবধি জীবন। তাহলে- একাকীত্ব হলো এমন এক দরজা, যার ওপারে শুধু নীরবতা। মানুষ সারাজীবন অন্যের কোলাহলের মাঝে থেকেও একদিন হঠাৎ বুঝতে পারে — তার ভেতরের গভীরে এক বিশাল নীরব শূন্যতা আছে, যেখানে কেউ পৌঁছাতে পারে না। সেই শূন্যতাই একাকীত্ব। জানতে হবে একাকীত্বকে উপভোগ করা। একাকীত্ব মানে হতাশা নয়। এটা একটা আর্ট বা শিল্প সৃষ্টির মাধ্যম। যা পারলে জীবনটা সুন্দর আর সহজ হয়ে যায়। তখন সাপোর্ট দেওয়ার জন্যে কারোর প্রয়োজন হবে না, আপনি নিজেই হবেন নিজের এক মস্ত বড় সাপোর্টার। যা আপনার জীবনকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে। একা থাকার সৌন্দর্য হলো—এখানে ভান নেই, প্রতিযোগিতা নেই, প্রত্যাশার বোঝা নেই। যে ব্যক্তি একা থাকতে জানে, তার কাছে হার মানা মানেই নতুন করে দাঁড়িয়ে ওঠা। কারণ যারা একা থাকতে শেখে, তারা জীবনের সবথেকে বড় সত্যিটা খুব তাড়াতাড়ি শিখে যায়।
তার মানে কি একা থাকা মানেই সুখী থাকা? একেবারেই না। মানুষকে সুখী করে সঙ্গ, ভালোবাসা, সবকিছু ভাগাভাগি করা। একা থাকার মানুষরাও সেটা জানে। কিন্তু তারা মনে করে যদি কেউ আসে, ভালো। যদি না-ও আসে, তবুও সমস্যা নেই। তাই তারা হারতে জানে, আবার হারিয়েও টিকে থাকতে জানে।
একাকীত্ব আমাদের শেখায়—নির্ভরশীল না হয়েও জীবন চলতে পারে। একাকীত্ব শেখায়—ভালোবাসা যেমন শক্তি, তেমনি একাকীত্বও এক ধরনের শক্তি। একা থাকার মধ্যেও লুকিয়ে আছে এক অনন্য মহিমা। তাই প্রতিটি দিন প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে হয়। না হলে জীবন থেকে সবথেকে বড়ো উপহার হাতছাড়া হয়ে যায় । তখন আরো একা হয়ে যেতে হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকে একা তাকিয়ে দেখুন অন্যরকম উপলব্ধি হবে। একাকীত্বকে অনেকেই দুঃখ মনে করে, কিন্তু আসলে এটি এক গভীর সত্যের আয়না। এখানে মানুষ নিজেকে নগ্নভাবে দেখতে শেখে — সব মুখোশ খুলে যায়, সব শব্দ মুছে যায়, থেকে যায় শুধু নিজস্ব শ্বাসের শব্দ। তখন বোঝা যায়, পৃথিবীর প্রতিটি সম্পর্কই ক্ষণস্থায়ী, প্রতিটি সান্ত্বনাই সময়সাপেক্ষ। শেষ পর্যন্ত মানুষকে নিজের ভেতরের সঙ্গেই বাঁচতে হয়।
তবু এই একাকীত্ব ভয়ঙ্কর নয়। এতে আছে এক ধরনের মুক্তি, এক ধরনের সৌন্দর্য। যখন কেউ নিজের নিঃসঙ্গতাকে গ্রহণ করে, তখন সে পৃথিবীর সমস্ত কোলাহলের ঊর্ধ্বে উঠে যায়। একাকীত্ব তখন আর অভিশাপ থাকে না, হয়ে ওঠে আত্মার আশ্রয়। হয়তো এ কারণেই, গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, তখন মন যেন একটু হালকা হয়ে যায়। তখন মনে হয় — একাকীত্ব আমাকে আঘাত করছে না, বরং আমাকে গড়ে তুলছে, আমাকে চিনিয়ে দিচ্ছে আমাকেই।
ঘোষ উত্তম 











































